ঢাকা নিউজ

পটুয়াখালীর বাউফলে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন



পটুয়াখালীর বাউফলে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে নিহত একই পরিবারের বাকি চার সদস্যের লাশ পটুয়াখালীর বাউফলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শনিবার উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামে স্বামী আবুল কালামের কবরের পাশেই শায়িত হন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান।

এর আগে উত্তর কনকদিয়া আলিম মাদ্রাসা মাঠে নিহতদের জানাজা সম্পন্ন হয়, যেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো পরিবারটির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে।

নিহত আবুল কালাম দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে সবজির ব্যবসা করতেন এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ফতুল্লার একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলায় বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে বাসার গ্যাস লাইনের লিকেজের বিষয়টি বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

গত রোববার ভোরে তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরিবারের পাঁচ সদস্যই গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে কালামের মৃত্যু হয় এবং ওইদিনই তাকে গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ছোট মেয়ে কথা মনি, বৃহস্পতিবার ছেলে মুন্না ও বড় মেয়ে মুন্নি এবং সর্বশেষ শুক্রবার স্ত্রী সালমা মারা যান। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে নিহতের ভাই জানান, আগুনে কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ, সালমার ৬০ শতাংশ, মুন্নির ৩৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং মুন্নার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত টাকা দিয়ে আবুল কালাম গ্রামের বাড়িতে একটি নতুন ঘর তুলছিলেন এবং আগামী কোরবানির ঈদে বাড়ি ফিরে বাকি কাজ শেষ করে সপরিবারে স্থায়ীভাবে গ্রামে বসবাসের পরিকল্পনা ছিল তাদের।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


পটুয়াখালীর বাউফলে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে নিহত একই পরিবারের বাকি চার সদস্যের লাশ পটুয়াখালীর বাউফলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শনিবার উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামে স্বামী আবুল কালামের কবরের পাশেই শায়িত হন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান।

এর আগে উত্তর কনকদিয়া আলিম মাদ্রাসা মাঠে নিহতদের জানাজা সম্পন্ন হয়, যেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো পরিবারটির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে।

নিহত আবুল কালাম দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে সবজির ব্যবসা করতেন এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ফতুল্লার একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলায় বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে বাসার গ্যাস লাইনের লিকেজের বিষয়টি বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

গত রোববার ভোরে তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরিবারের পাঁচ সদস্যই গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে কালামের মৃত্যু হয় এবং ওইদিনই তাকে গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ছোট মেয়ে কথা মনি, বৃহস্পতিবার ছেলে মুন্না ও বড় মেয়ে মুন্নি এবং সর্বশেষ শুক্রবার স্ত্রী সালমা মারা যান। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে নিহতের ভাই জানান, আগুনে কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ, সালমার ৬০ শতাংশ, মুন্নির ৩৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং মুন্নার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত টাকা দিয়ে আবুল কালাম গ্রামের বাড়িতে একটি নতুন ঘর তুলছিলেন এবং আগামী কোরবানির ঈদে বাড়ি ফিরে বাকি কাজ শেষ করে সপরিবারে স্থায়ীভাবে গ্রামে বসবাসের পরিকল্পনা ছিল তাদের।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ