যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের ২০০টি বিমান কিনতে চীন রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভবিষ্যতে এই অর্ডারের পরিমাণ আরও বেড়ে সর্বোচ্চ ৭৫০টিতে গিয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানগুলোতে ব্যবহৃত হবে বিখ্যাত জিই অ্যারোস্পেসের তৈরি ইঞ্জিন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) প্রেসিডেন্টদের বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তিতে বর্তমানে প্রায় ২০০টি বিমান রয়েছে এবং এগুলো ঠিকঠাক ও ভালো কাজ করলে পরবর্তীতে মোট অর্ডার ৭৫০টি পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। তবে ঠিক কোন ধরনের মডেলের বিমান কেনা হবে কিংবা কবে নাগাদ এগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এখন পর্যন্ত চীনা সরকার বা বোয়িং—কোনো পক্ষের কাছ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। তবে চুক্তিটি যদি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা বোয়িংয়ের জন্য একটি বিশাল ও ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার তীব্র বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের বিশাল বাজারে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল মার্কিন এই বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেলি অর্টবার্ট সম্প্রতি ট্রাম্পের বেইজিং সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন এবং ওই সফরে চীনের কাছে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা বিক্রির জন্য জোর চেষ্টা চালানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত এটি স্পষ্ট নয় যে, ঘোষিত ২০০টি বিমানের ঠিক কতগুলো একদম নতুন অর্ডার এবং কতগুলো আগে থেকেই বোয়িংয়ের চলমান অর্ডার তালিকায় বিদ্যমান ছিল।
চীনের পূর্ববর্তী কেনাকাটার ধরণ সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বড় বড় বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণার ক্ষেত্রে বেইজিং নতুন অর্ডারের সঙ্গে তাদের পুরোনো প্রতিশ্রুতিগুলোকেও একসঙ্গে যুক্ত করে দেখিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় মাপের একটি আন্তর্জাতিক অর্ডার চীনের দ্রুত বাড়তে থাকা বিমান পরিবহন খাতের সার্বিক সক্ষমতা ব্যাপক আকারে বাড়াতে সহায়তা করবে, বিশেষ করে যেখানে তাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিওএমএসি-এর তৈরি সি৯১৯ উড়োজাহাজের উৎপাদন এখনো তাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
এ ছাড়া এই সম্ভাব্য চুক্তিটি বোয়িংকে তাদের প্রধান ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের সঙ্গে চলমান ব্যবসায়িক ব্যবধান কমাতেও দারুণভাবে সাহায্য করবে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে বোয়িংকে টপকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিমান খাতভিত্তিক বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইবিএর হিসাব অনুযায়ী, ঘোষিত এই ২০০টি বিমানের অর্ডারের সম্ভাব্য বাজার মূল্য হতে পারে ১৭ থেকে ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যদি এই অর্ডারের সিংহভাগ অর্থাৎ ৮০ শতাংশই হয় বোয়িংয়ের ম্যাক্স সিরিজের বিমান।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের ২০০টি বিমান কিনতে চীন রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভবিষ্যতে এই অর্ডারের পরিমাণ আরও বেড়ে সর্বোচ্চ ৭৫০টিতে গিয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানগুলোতে ব্যবহৃত হবে বিখ্যাত জিই অ্যারোস্পেসের তৈরি ইঞ্জিন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) প্রেসিডেন্টদের বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তিতে বর্তমানে প্রায় ২০০টি বিমান রয়েছে এবং এগুলো ঠিকঠাক ও ভালো কাজ করলে পরবর্তীতে মোট অর্ডার ৭৫০টি পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। তবে ঠিক কোন ধরনের মডেলের বিমান কেনা হবে কিংবা কবে নাগাদ এগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এখন পর্যন্ত চীনা সরকার বা বোয়িং—কোনো পক্ষের কাছ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। তবে চুক্তিটি যদি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা বোয়িংয়ের জন্য একটি বিশাল ও ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার তীব্র বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের বিশাল বাজারে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল মার্কিন এই বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেলি অর্টবার্ট সম্প্রতি ট্রাম্পের বেইজিং সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন এবং ওই সফরে চীনের কাছে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা বিক্রির জন্য জোর চেষ্টা চালানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত এটি স্পষ্ট নয় যে, ঘোষিত ২০০টি বিমানের ঠিক কতগুলো একদম নতুন অর্ডার এবং কতগুলো আগে থেকেই বোয়িংয়ের চলমান অর্ডার তালিকায় বিদ্যমান ছিল।
চীনের পূর্ববর্তী কেনাকাটার ধরণ সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বড় বড় বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণার ক্ষেত্রে বেইজিং নতুন অর্ডারের সঙ্গে তাদের পুরোনো প্রতিশ্রুতিগুলোকেও একসঙ্গে যুক্ত করে দেখিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় মাপের একটি আন্তর্জাতিক অর্ডার চীনের দ্রুত বাড়তে থাকা বিমান পরিবহন খাতের সার্বিক সক্ষমতা ব্যাপক আকারে বাড়াতে সহায়তা করবে, বিশেষ করে যেখানে তাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিওএমএসি-এর তৈরি সি৯১৯ উড়োজাহাজের উৎপাদন এখনো তাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
এ ছাড়া এই সম্ভাব্য চুক্তিটি বোয়িংকে তাদের প্রধান ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের সঙ্গে চলমান ব্যবসায়িক ব্যবধান কমাতেও দারুণভাবে সাহায্য করবে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে বোয়িংকে টপকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিমান খাতভিত্তিক বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইবিএর হিসাব অনুযায়ী, ঘোষিত এই ২০০টি বিমানের অর্ডারের সম্ভাব্য বাজার মূল্য হতে পারে ১৭ থেকে ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যদি এই অর্ডারের সিংহভাগ অর্থাৎ ৮০ শতাংশই হয় বোয়িংয়ের ম্যাক্স সিরিজের বিমান।

আপনার মতামত লিখুন