ঢাকা নিউজ

সহজ কিছু উপায়ে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চেনার উপায়



সহজ কিছু উপায়ে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চেনার উপায়
ছবি : সংগৃহীত

গরমের এই সময়ে বাজারজুড়ে হিমসাগর, ল্যাংড়াসহ নানা জাতের আমের সমারোহ থাকলেও কৃত্রিমভাবে রাসায়নিক ব্যবহার করে আম পাকানোর প্রবণতা ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম কারবাইড ব্যবহার করে দ্রুত আম পাকানো হচ্ছে, যা শরীরে প্রবেশ করলে বমি ভাব, পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সচেতন ক্রেতারা কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করলেই প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম চিনে নিতে পারেন।

প্রথমত, রঙের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে সাধারণত হলুদ ও সবুজ রঙের মিশ্রণ থাকে এবং পুরো আমের রং সমান হয় না। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম অস্বাভাবিক উজ্জ্বল দেখায় এবং পুরো ফলই একই ধরনের কৃত্রিম হলুদ রঙ ধারণ করে।

দ্বিতীয়ত, আমের বোঁটার কাছে মিষ্টি ও স্বাভাবিক ফলের সুবাস পাওয়া গেলে সেটি প্রাকৃতিকভাবে পাকা। অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে কোনো ঘ্রাণ থাকে না, কিংবা কখনো কখনো ঝাঁজালো রাসায়নিকের গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।

তৃতীয়ত, প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম কাটলে ভেতরের অংশ নরম এবং গাঢ় হলুদ বা জাফরানি রঙের হয়। কিন্তু কৃত্রিমভাবে পাকানো আম বাইরে থেকে নরম মনে হলেও কাটার পর ভেতরের অংশ ফ্যাকাশে, শক্ত কিংবা রাবারের মতো হতে পারে।

চতুর্থত, একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে আম ছাড়লে প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম সাধারণত পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমের ভেতরে বাতাসের পকেট তৈরি হওয়ায় তা পানির ওপর ভেসে থাকতে পারে।

পঞ্চমত, স্বাভাবিকভাবে পাকা আমের গায়ে ছোটখাটো দাগ বা খুঁত থাকা স্বাভাবিক। তাই অতিরিক্ত মসৃণ, চকচকে ও একেবারে নিখুঁত দেখানো আম দেখলে সতর্ক হওয়া উচিত, কারণ এগুলো কৃত্রিমভাবে পাকানো হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, আম কেনার পর খাওয়ার আগে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত, যাতে ফলের গায়ে থাকা রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ দূর হয়। এছাড়া বাজার থেকে অতিরিক্ত পাকা ও আকর্ষণীয় আম কেনার বদলে বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কাঁচা আম কিনে বাড়িতে খবরের কাগজে মুড়িয়ে বা চালের পাত্রে রেখে স্বাভাবিক উপায়ে পাকানোই সবচেয়ে নিরাপদ।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


সহজ কিছু উপায়ে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চেনার উপায়

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

গরমের এই সময়ে বাজারজুড়ে হিমসাগর, ল্যাংড়াসহ নানা জাতের আমের সমারোহ থাকলেও কৃত্রিমভাবে রাসায়নিক ব্যবহার করে আম পাকানোর প্রবণতা ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম কারবাইড ব্যবহার করে দ্রুত আম পাকানো হচ্ছে, যা শরীরে প্রবেশ করলে বমি ভাব, পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সচেতন ক্রেতারা কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করলেই প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম চিনে নিতে পারেন।

প্রথমত, রঙের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে সাধারণত হলুদ ও সবুজ রঙের মিশ্রণ থাকে এবং পুরো আমের রং সমান হয় না। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম অস্বাভাবিক উজ্জ্বল দেখায় এবং পুরো ফলই একই ধরনের কৃত্রিম হলুদ রঙ ধারণ করে।

দ্বিতীয়ত, আমের বোঁটার কাছে মিষ্টি ও স্বাভাবিক ফলের সুবাস পাওয়া গেলে সেটি প্রাকৃতিকভাবে পাকা। অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে কোনো ঘ্রাণ থাকে না, কিংবা কখনো কখনো ঝাঁজালো রাসায়নিকের গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।

তৃতীয়ত, প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম কাটলে ভেতরের অংশ নরম এবং গাঢ় হলুদ বা জাফরানি রঙের হয়। কিন্তু কৃত্রিমভাবে পাকানো আম বাইরে থেকে নরম মনে হলেও কাটার পর ভেতরের অংশ ফ্যাকাশে, শক্ত কিংবা রাবারের মতো হতে পারে।

চতুর্থত, একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে আম ছাড়লে প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম সাধারণত পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমের ভেতরে বাতাসের পকেট তৈরি হওয়ায় তা পানির ওপর ভেসে থাকতে পারে।

পঞ্চমত, স্বাভাবিকভাবে পাকা আমের গায়ে ছোটখাটো দাগ বা খুঁত থাকা স্বাভাবিক। তাই অতিরিক্ত মসৃণ, চকচকে ও একেবারে নিখুঁত দেখানো আম দেখলে সতর্ক হওয়া উচিত, কারণ এগুলো কৃত্রিমভাবে পাকানো হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, আম কেনার পর খাওয়ার আগে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত, যাতে ফলের গায়ে থাকা রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ দূর হয়। এছাড়া বাজার থেকে অতিরিক্ত পাকা ও আকর্ষণীয় আম কেনার বদলে বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কাঁচা আম কিনে বাড়িতে খবরের কাগজে মুড়িয়ে বা চালের পাত্রে রেখে স্বাভাবিক উপায়ে পাকানোই সবচেয়ে নিরাপদ।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ