ঢাকা নিউজ

ভবিষ্যৎ গ্লোবাল সাউথের: ইরানের স্পিকার



ভবিষ্যৎ গ্লোবাল সাউথের: ইরানের স্পিকার
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানি জাতির ৭০ দিনের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ বিশ্বে শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে এবং এর মধ্য দিয়ে নতুন বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার সূচনা হচ্ছে। শনিবার এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব এখন একটি নতুন ব্যবস্থার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং ইরানি জাতির প্রতিরোধ একে আরও গতিশীল করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ মূলত গ্লোবাল সাউথের।

গালিবাফের বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, উদীয়মান বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গঠনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে দেখছে। তাঁর দাবি, গত ৭০ দিনে ইরানি জনগণ ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও বিপ্লবী চেতনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি ও ভয় দেখানোর যে চেষ্টা শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার দুর্বলতাকেই উন্মোচিত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই প্রতিরোধ শুধু ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেনি, বরং লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু উন্নয়নশীল দেশের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এসব দেশের অনেকেই মনে করছে, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক আগ্রাসন ও অর্থনৈতিক আধিপত্যনির্ভর পশ্চিমা প্রভাবের যুগ ধীরে ধীরে শেষের পথে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মনির্ভরতা, জাতীয় ঐক্য এবং ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর প্রতি অঙ্গীকার একটি ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে প্রতিদিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এ ছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে যুদ্ধের ৪০তম দিনে, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হলেও ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান ও সর্বোচ্চ দাবির কারণে তা শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


ভবিষ্যৎ গ্লোবাল সাউথের: ইরানের স্পিকার

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানি জাতির ৭০ দিনের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ বিশ্বে শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে এবং এর মধ্য দিয়ে নতুন বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার সূচনা হচ্ছে। শনিবার এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব এখন একটি নতুন ব্যবস্থার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং ইরানি জাতির প্রতিরোধ একে আরও গতিশীল করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ মূলত গ্লোবাল সাউথের।

গালিবাফের বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, উদীয়মান বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গঠনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে দেখছে। তাঁর দাবি, গত ৭০ দিনে ইরানি জনগণ ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও বিপ্লবী চেতনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি ও ভয় দেখানোর যে চেষ্টা শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার দুর্বলতাকেই উন্মোচিত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই প্রতিরোধ শুধু ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেনি, বরং লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু উন্নয়নশীল দেশের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এসব দেশের অনেকেই মনে করছে, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক আগ্রাসন ও অর্থনৈতিক আধিপত্যনির্ভর পশ্চিমা প্রভাবের যুগ ধীরে ধীরে শেষের পথে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মনির্ভরতা, জাতীয় ঐক্য এবং ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর প্রতি অঙ্গীকার একটি ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে প্রতিদিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এ ছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে যুদ্ধের ৪০তম দিনে, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হলেও ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান ও সর্বোচ্চ দাবির কারণে তা শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছায়নি।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ