এই পৃথিবীতে কিছু মানুষ থাকেন যাদের নাম উচ্চারণ করলে হৃদয়ের ভেতর এক ধরনের প্রশান্তি নেমে আসে। তারা প্রচারের আলোয় হাঁটেন না, সংবাদপত্রের শিরোনামও হন না; অথচ তাদের নীরব পদচারণায় বদলে যায় অসংখ্য মানুষের জীবন। তারা নিজেরা ইতিহাস লিখতে বসেন না, বরং মানুষ গড়ে এমন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেন যা যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে। তেমনই এক নীরব আলোর নাম— মাওলানা নুরুল হুদা।
১৯৬০ সালের ২৪ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বরপাড়া গ্রামে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই ইলম ও তাকওয়ার প্রতি ছিল তার গভীর ঝোঁক। সাধারণ জীবনযাপন, বিনয়ী স্বভাব আর নীরব মেহনত—এই তিন গুণই তাকে আলাদা করে তুলেছিল। মাওলানা নুরুল হুদা ঠিক তেমনই একজন মানুষ, যিনি নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন অন্যের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য।
২০০৩ সালে তিনি লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়ায় প্রতিষ্ঠা করেন আমিরুল মুমিনীন কওমি মাদ্রাসা। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি অসংখ্য ছাত্রের স্বপ্নের ঠিকানা, অসহায়দের আশ্রয়, দ্বীনি শিক্ষার এক উজ্জ্বল বাতিঘর। আর এই বাতিঘরের পেছনে যার নিরলস শ্রম, দোয়া ও ত্যাগ মিশে আছে তিনি মাওলানা নুরুল হুদা। তিনি মাদ্রাসা গড়েছেন, কিন্তু শুধু দালান তৈরি করেননি; গড়েছেন মানুষ, যাদের অন্তরে আছে তাকওয়া, চোখে আছে স্বপ্ন আর চরিত্রে আছে মানবতার সৌন্দর্য।
শিশুদের প্রতি তার মমতা ছিল গভীর এবং ছোট ছোট বাচ্চারা তার কাছে গেলে ভয় পেত না, বরং ছুটে যেত আপন মানুষ ভেবে। তাদের মাথায় হাত রেখে তিনি যেভাবে দোয়া করতেন, তাতে মনে হতো তিনি একজন স্নেহময় পিতা। বিশেষ করে এতিম ও নিঃস্ব ছাত্রদের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অনন্য এবং মাদ্রাসার ভেতরে এসে তারা অনুভব করত যে তারা একা নয়। কারণ সেখানে একজন মানুষ ছিলেন, যিনি হৃদয় দিয়ে তাদের ভালোবাসতেন।
ইলমের জগতে তার গভীরতা সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি একই সাথে একজন আলেম, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুফাক্কির, মুহাক্কিক ও বিদগ্ধ গবেষক। তার জ্ঞানের পরিধি ছিল সমুদ্রের মতো বিস্তৃত, কিন্তু ব্যক্তিত্ব ছিল শিশিরবিন্দুর মতো বিনয়ী। বড় বড় কিতাবের জটিল আলোচনা তিনি সহজ আলোয় ব্যাখ্যা করতেন এবং তার দরসে বসলে মনে হতো এ যেন আত্মার পরিশুদ্ধি।
আজ দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে আছে তার হাজারো ছাত্র। কেউ শিক্ষক, কেউ খতিব, কেউ গবেষক, আবার কেউ দ্বীনের খাদেম। কিন্তু তাদের সবার গল্পের শুরুতে একটি নাম অনিবার্যভাবে জড়িয়ে আছে এবং তা হলো মাওলানা নুরুল হুদা। তাদের হাতেখড়ি হয়েছিল তার হাত ধরেই এবং তার শেখানো আদব, আখলাক, ইলম ও আমলের শিক্ষা আজও তাদের জীবনকে পথ দেখায়।
এত কিছুর পরও তার মধ্যে অহংকারের লেশমাত্র নেই এবং তিনি গভীর নদীর মতো সবসময় নীরব থাকেন। এখনো তিনি জীবিত আছেন এবং দ্বীনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
এই যুগে যখন মানুষ খ্যাতির জন্য ব্যস্ত, তখন এই মানুষটি জীবনভর নিরবে কাজ করে গেছেন। আজ যখন সমাজে নৈতিকতা ও আদর্শের সংকট, তখন মাওলানা নুরুল হুদার মতো মানুষদের দেখলেই আশার আলো জ্বলে ওঠে এবং মনে হয় পৃথিবী এখনো পুরোপুরি শূন্য হয়ে যায়নি।

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
এই পৃথিবীতে কিছু মানুষ থাকেন যাদের নাম উচ্চারণ করলে হৃদয়ের ভেতর এক ধরনের প্রশান্তি নেমে আসে। তারা প্রচারের আলোয় হাঁটেন না, সংবাদপত্রের শিরোনামও হন না; অথচ তাদের নীরব পদচারণায় বদলে যায় অসংখ্য মানুষের জীবন। তারা নিজেরা ইতিহাস লিখতে বসেন না, বরং মানুষ গড়ে এমন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেন যা যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে। তেমনই এক নীরব আলোর নাম— মাওলানা নুরুল হুদা।
১৯৬০ সালের ২৪ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বরপাড়া গ্রামে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই ইলম ও তাকওয়ার প্রতি ছিল তার গভীর ঝোঁক। সাধারণ জীবনযাপন, বিনয়ী স্বভাব আর নীরব মেহনত—এই তিন গুণই তাকে আলাদা করে তুলেছিল। মাওলানা নুরুল হুদা ঠিক তেমনই একজন মানুষ, যিনি নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন অন্যের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য।
২০০৩ সালে তিনি লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়ায় প্রতিষ্ঠা করেন আমিরুল মুমিনীন কওমি মাদ্রাসা। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি অসংখ্য ছাত্রের স্বপ্নের ঠিকানা, অসহায়দের আশ্রয়, দ্বীনি শিক্ষার এক উজ্জ্বল বাতিঘর। আর এই বাতিঘরের পেছনে যার নিরলস শ্রম, দোয়া ও ত্যাগ মিশে আছে তিনি মাওলানা নুরুল হুদা। তিনি মাদ্রাসা গড়েছেন, কিন্তু শুধু দালান তৈরি করেননি; গড়েছেন মানুষ, যাদের অন্তরে আছে তাকওয়া, চোখে আছে স্বপ্ন আর চরিত্রে আছে মানবতার সৌন্দর্য।
শিশুদের প্রতি তার মমতা ছিল গভীর এবং ছোট ছোট বাচ্চারা তার কাছে গেলে ভয় পেত না, বরং ছুটে যেত আপন মানুষ ভেবে। তাদের মাথায় হাত রেখে তিনি যেভাবে দোয়া করতেন, তাতে মনে হতো তিনি একজন স্নেহময় পিতা। বিশেষ করে এতিম ও নিঃস্ব ছাত্রদের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অনন্য এবং মাদ্রাসার ভেতরে এসে তারা অনুভব করত যে তারা একা নয়। কারণ সেখানে একজন মানুষ ছিলেন, যিনি হৃদয় দিয়ে তাদের ভালোবাসতেন।
ইলমের জগতে তার গভীরতা সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি একই সাথে একজন আলেম, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুফাক্কির, মুহাক্কিক ও বিদগ্ধ গবেষক। তার জ্ঞানের পরিধি ছিল সমুদ্রের মতো বিস্তৃত, কিন্তু ব্যক্তিত্ব ছিল শিশিরবিন্দুর মতো বিনয়ী। বড় বড় কিতাবের জটিল আলোচনা তিনি সহজ আলোয় ব্যাখ্যা করতেন এবং তার দরসে বসলে মনে হতো এ যেন আত্মার পরিশুদ্ধি।
আজ দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে আছে তার হাজারো ছাত্র। কেউ শিক্ষক, কেউ খতিব, কেউ গবেষক, আবার কেউ দ্বীনের খাদেম। কিন্তু তাদের সবার গল্পের শুরুতে একটি নাম অনিবার্যভাবে জড়িয়ে আছে এবং তা হলো মাওলানা নুরুল হুদা। তাদের হাতেখড়ি হয়েছিল তার হাত ধরেই এবং তার শেখানো আদব, আখলাক, ইলম ও আমলের শিক্ষা আজও তাদের জীবনকে পথ দেখায়।
এত কিছুর পরও তার মধ্যে অহংকারের লেশমাত্র নেই এবং তিনি গভীর নদীর মতো সবসময় নীরব থাকেন। এখনো তিনি জীবিত আছেন এবং দ্বীনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
এই যুগে যখন মানুষ খ্যাতির জন্য ব্যস্ত, তখন এই মানুষটি জীবনভর নিরবে কাজ করে গেছেন। আজ যখন সমাজে নৈতিকতা ও আদর্শের সংকট, তখন মাওলানা নুরুল হুদার মতো মানুষদের দেখলেই আশার আলো জ্বলে ওঠে এবং মনে হয় পৃথিবী এখনো পুরোপুরি শূন্য হয়ে যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন