কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টির প্রচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানের এই ধরণের পদক্ষেপ জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশনের নীতিগুলোকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। আন্তর্জাতিক এই আইন অনুযায়ী, যেকোনো আন্তর্জাতিক নৌপথে সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার রয়েছে, যা অমান্য করায় বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি হচ্ছে।
এই সংকটের প্রভাব কেবল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি মালাক্কা প্রণালী, সুয়েজ খাল বা বাব আল-মান্দাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। একটি দেশ যদি আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কোনো নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তবে অন্যান্য অঞ্চলে থাকা সামুদ্রিক পথগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়বে।
অধ্যাপক মাসগ্রেভ সতর্ক করেছেন যে ইরানের এই একপাক্ষিক আচরণ যদি বিশ্ব সম্প্রদায় মেনে নেয়, তবে বিশ্বের অন্যান্য ক্ষমতাধর দেশগুলোও নিজেদের অঞ্চলের নৌপথে একই ধরণের অনৈতিক দাবি করতে উৎসাহিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, ভবিষ্যতে যদি স্পেন একইভাবে ভূমধ্যসাগরে জাহাজ প্রবেশ ও প্রস্থানের ওপর নিজস্ব আইন বা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়, তবে তা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টির প্রচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানের এই ধরণের পদক্ষেপ জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশনের নীতিগুলোকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। আন্তর্জাতিক এই আইন অনুযায়ী, যেকোনো আন্তর্জাতিক নৌপথে সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার রয়েছে, যা অমান্য করায় বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি হচ্ছে।
এই সংকটের প্রভাব কেবল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি মালাক্কা প্রণালী, সুয়েজ খাল বা বাব আল-মান্দাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। একটি দেশ যদি আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কোনো নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তবে অন্যান্য অঞ্চলে থাকা সামুদ্রিক পথগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়বে।
অধ্যাপক মাসগ্রেভ সতর্ক করেছেন যে ইরানের এই একপাক্ষিক আচরণ যদি বিশ্ব সম্প্রদায় মেনে নেয়, তবে বিশ্বের অন্যান্য ক্ষমতাধর দেশগুলোও নিজেদের অঞ্চলের নৌপথে একই ধরণের অনৈতিক দাবি করতে উৎসাহিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, ভবিষ্যতে যদি স্পেন একইভাবে ভূমধ্যসাগরে জাহাজ প্রবেশ ও প্রস্থানের ওপর নিজস্ব আইন বা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়, তবে তা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

আপনার মতামত লিখুন