মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের মাত্র চার দিন পর রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে এটি চীনের মাটিতে রুশ নেতার ২৫তম সফর, যা বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাস এবং শি জিনপিংয়ের সাথে পুতিনের গভীর সম্পর্কের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বিশ্বের শীর্ষ দুই শক্তিশালী নেতাকে আতিথেয়তা দিয়ে শি জিনপিং ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে চাইলেন যে বেইজিংকে সহজে কোণঠাসা করা যাবে না।
ভ্লাদিমির পুতিন এমন এক সময়ে এই সফরে এলেন, যখন ইউক্রেনীয় রণক্ষেত্রে চলতি বছরে রাশিয়ার তেমন কোনো বড় অগ্রগতি না হওয়ায় এবং দেশের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ক্রেমলিন চীনের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তবে সফরের প্রাক্কালে এক ভিডিও বার্তায় পুতিন দাবি করেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক বর্তমানে একটি নজিরবিহীন স্তরে পৌঁছেছে, যার প্রমাণ হিসেবে তিনি দুই দেশের আকাশচুম্বী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং মার্কিন ডলারের পরিবর্তে রুবল ও ইউয়ানের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ডলারবিহীন লেনদেনকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষাকবচ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি ক্রয় করেছে। বর্তমান সফরে দুই দেশ ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ নামক ১,৬০০ মাইলের প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছায় কিনা, সেদিকে নজর রাখছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় রাশিয়া থেকে স্থলপথে এই জ্বালানি সরবরাহ চীনের জন্যও একটি বড় বিকল্প পথ তৈরি করবে।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য রাশিয়ার সাথে সম্পর্কের জেরে দুটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বেইজিং তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠকে শি জিনপিং ট্রাম্পকে ‘পুতিন যুদ্ধের জন্য শেষ পর্যন্ত অনুতপ্ত হতে পারেন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হলেও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সম্প্রতি সাইবেরিয়ার একজন রুশ আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে সতর্ক করে বলেছেন যে, বিশেষ সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হলে রাশিয়ার অর্থনীতি তা সহ্য করতে পারবে না এবং অবিলম্বে এই যুদ্ধ শেষ করা উচিত।

বুধবার, ২০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের মাত্র চার দিন পর রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে এটি চীনের মাটিতে রুশ নেতার ২৫তম সফর, যা বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাস এবং শি জিনপিংয়ের সাথে পুতিনের গভীর সম্পর্কের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বিশ্বের শীর্ষ দুই শক্তিশালী নেতাকে আতিথেয়তা দিয়ে শি জিনপিং ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে চাইলেন যে বেইজিংকে সহজে কোণঠাসা করা যাবে না।
ভ্লাদিমির পুতিন এমন এক সময়ে এই সফরে এলেন, যখন ইউক্রেনীয় রণক্ষেত্রে চলতি বছরে রাশিয়ার তেমন কোনো বড় অগ্রগতি না হওয়ায় এবং দেশের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ক্রেমলিন চীনের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তবে সফরের প্রাক্কালে এক ভিডিও বার্তায় পুতিন দাবি করেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক বর্তমানে একটি নজিরবিহীন স্তরে পৌঁছেছে, যার প্রমাণ হিসেবে তিনি দুই দেশের আকাশচুম্বী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং মার্কিন ডলারের পরিবর্তে রুবল ও ইউয়ানের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ডলারবিহীন লেনদেনকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষাকবচ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি ক্রয় করেছে। বর্তমান সফরে দুই দেশ ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ নামক ১,৬০০ মাইলের প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছায় কিনা, সেদিকে নজর রাখছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় রাশিয়া থেকে স্থলপথে এই জ্বালানি সরবরাহ চীনের জন্যও একটি বড় বিকল্প পথ তৈরি করবে।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য রাশিয়ার সাথে সম্পর্কের জেরে দুটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বেইজিং তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠকে শি জিনপিং ট্রাম্পকে ‘পুতিন যুদ্ধের জন্য শেষ পর্যন্ত অনুতপ্ত হতে পারেন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হলেও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সম্প্রতি সাইবেরিয়ার একজন রুশ আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে সতর্ক করে বলেছেন যে, বিশেষ সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হলে রাশিয়ার অর্থনীতি তা সহ্য করতে পারবে না এবং অবিলম্বে এই যুদ্ধ শেষ করা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন