ঢাকা নিউজ

ইরানের পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি: ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি



ইরানের পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি: ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও, এক দিন পর জানান যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলায় পরিকল্পিত নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে ইরানিরা সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসছে এবং ইঙ্গিত দিয়েছে যে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলো ও বিশ্ব অর্থনীতির কাছ থেকে এর চরম মূল্য আদায় করা হবে।

জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স-এর ইরান বিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হামিদ রেজা আজিজি জানান, প্রথম দফার যুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রস্তুতি থাকলেও, এবার যুদ্ধ শুরু হলে তা ‘স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র’ হবে বলে ইরানি নেতারা ধারণা করছেন। নতুন করে লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে শত্রুর হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও বন্দরগুলোয় আঘাত হেনে বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা এবং ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে ইরানের অন্যতম প্রধান কৌশল, যার ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এই যুদ্ধে আরও বেশি জড়িয়ে পড়তে পারে।

হামলায় সহায়তার অভিযোগে সম্প্রতি ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তীব্র আমিরাত বিরোধী হুমকি আসছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক মেহেদি খারাতিয়ান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রয়োজন হলে তারা আবুধাবি দখল করবেন এবং আমিরাতকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেবেন। অন্যদিকে আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো আলী আলফোনেহ জানান, এই বক্তব্যগুলো অতিরঞ্জিত হলেও তা মূলত ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্বের চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে।

অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে ইরান এবার হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবাহিত হওয়া এই সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশে অবস্থিত। মেহেদি খারাতিয়ানের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানলে ইরান বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল সীমিত করে পাল্টা জবাব দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে দুটি সামুদ্রিক ফ্রন্টে মনোযোগ দিতে বাধ্য করবে। আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হলে হুতি মিলিশিয়ারা ইরানকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করলেও, তাদের সামরিক মজুতের সীমাবদ্ধতার কারণে গত দফার লড়াইয়ে তারা বেশ সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


ইরানের পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি: ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও, এক দিন পর জানান যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলায় পরিকল্পিত নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে ইরানিরা সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসছে এবং ইঙ্গিত দিয়েছে যে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলো ও বিশ্ব অর্থনীতির কাছ থেকে এর চরম মূল্য আদায় করা হবে।

জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স-এর ইরান বিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হামিদ রেজা আজিজি জানান, প্রথম দফার যুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রস্তুতি থাকলেও, এবার যুদ্ধ শুরু হলে তা ‘স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র’ হবে বলে ইরানি নেতারা ধারণা করছেন। নতুন করে লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে শত্রুর হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও বন্দরগুলোয় আঘাত হেনে বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা এবং ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে ইরানের অন্যতম প্রধান কৌশল, যার ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এই যুদ্ধে আরও বেশি জড়িয়ে পড়তে পারে।

হামলায় সহায়তার অভিযোগে সম্প্রতি ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তীব্র আমিরাত বিরোধী হুমকি আসছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক মেহেদি খারাতিয়ান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রয়োজন হলে তারা আবুধাবি দখল করবেন এবং আমিরাতকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেবেন। অন্যদিকে আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো আলী আলফোনেহ জানান, এই বক্তব্যগুলো অতিরঞ্জিত হলেও তা মূলত ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্বের চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে।

অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে ইরান এবার হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবাহিত হওয়া এই সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশে অবস্থিত। মেহেদি খারাতিয়ানের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানলে ইরান বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল সীমিত করে পাল্টা জবাব দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে দুটি সামুদ্রিক ফ্রন্টে মনোযোগ দিতে বাধ্য করবে। আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হলে হুতি মিলিশিয়ারা ইরানকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করলেও, তাদের সামরিক মজুতের সীমাবদ্ধতার কারণে গত দফার লড়াইয়ে তারা বেশ সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ