ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে ইরাকের অভ্যন্তরে গোপনে দুটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল ইসরাইল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘাঁটি পাহারা ও গোপনীয়তা রক্ষা করার সময় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক ইরাকি সেনা সদস্য এবং একজন বেদুইন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।
এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ব্যবহারের জন্য ইরাকের পশ্চিম মরুভূমিতে একটি ঘাঁটি তৈরি করেছিল ইসরাইল। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট চিত্রেও কারবালার দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি শুকনো হ্রদের মধ্যে অস্থায়ী বিমানঘাঁটির মতো স্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায়। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের নতুন অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেখানে শুধু একটি নয়, বরং দুটি গোপন ঘাঁটি ছিল— যা ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে হওয়া সংঘর্ষ এবং ২০২৬ সালের চলমান যুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘাঁটি দুটির নির্মাণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত মূল তথ্যসমূহ:
নির্মাণকাল ও উদ্দেশ্য: ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইসরাইল এই ঘাঁটিগুলোর নির্মাণকাজ শুরু করে। মূলত ইরানে হামলার সময় দূরত্ব ও সময় কমিয়ে আনা, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং ইসরাইলি বিমানবাহিনীর (IAF) জন্য লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই এগুলো তৈরি করা হয়। সেখানে ইসরাইলের বিশেষ বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা: প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলের এই গোপন ঘাঁটি নির্মাণের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন সম্পূর্ণ অবগত ছিল। তবে এখন পর্যন্ত ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্র— কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘাঁটির অস্তিত্ব স্বীকার করেনি।
স্থানীয়দের সন্দেহ ও প্রাণহানি: ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের স্থানীয় বেদুইনরা বেশ কিছুদিন ধরেই মরুভূমিতে সন্দেহজনক তৎপরতার বিষয়ে ইরাকি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে আসছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য মতে, গত ৩ মার্চ আওয়াদ আল-শাম্মারি নামে এক বেদুইন রাখাল ঘাঁটির কাছাকাছি চলে গেলে একটি ইসরাইলি হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ইরাকি বাহিনীর একটি দল সেখানে নজরদারি অভিযানে গেলে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক ইরাকি সেনা নিহত এবং আরও দুইজন আহত হন।
এই ঘটনা ফাঁসের পর ইরাকি আইনপ্রণেতা ওয়াদ আল-কুদু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও আমাদের জনগণের মর্যাদার প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা।" তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং ঘাঁটির বিষয়ে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স (IDF) এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে ইরাকের অভ্যন্তরে গোপনে দুটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল ইসরাইল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘাঁটি পাহারা ও গোপনীয়তা রক্ষা করার সময় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক ইরাকি সেনা সদস্য এবং একজন বেদুইন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।
এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ব্যবহারের জন্য ইরাকের পশ্চিম মরুভূমিতে একটি ঘাঁটি তৈরি করেছিল ইসরাইল। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট চিত্রেও কারবালার দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি শুকনো হ্রদের মধ্যে অস্থায়ী বিমানঘাঁটির মতো স্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায়। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের নতুন অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেখানে শুধু একটি নয়, বরং দুটি গোপন ঘাঁটি ছিল— যা ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে হওয়া সংঘর্ষ এবং ২০২৬ সালের চলমান যুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘাঁটি দুটির নির্মাণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত মূল তথ্যসমূহ:
নির্মাণকাল ও উদ্দেশ্য: ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইসরাইল এই ঘাঁটিগুলোর নির্মাণকাজ শুরু করে। মূলত ইরানে হামলার সময় দূরত্ব ও সময় কমিয়ে আনা, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং ইসরাইলি বিমানবাহিনীর (IAF) জন্য লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই এগুলো তৈরি করা হয়। সেখানে ইসরাইলের বিশেষ বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা: প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলের এই গোপন ঘাঁটি নির্মাণের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন সম্পূর্ণ অবগত ছিল। তবে এখন পর্যন্ত ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্র— কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘাঁটির অস্তিত্ব স্বীকার করেনি।
স্থানীয়দের সন্দেহ ও প্রাণহানি: ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের স্থানীয় বেদুইনরা বেশ কিছুদিন ধরেই মরুভূমিতে সন্দেহজনক তৎপরতার বিষয়ে ইরাকি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে আসছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য মতে, গত ৩ মার্চ আওয়াদ আল-শাম্মারি নামে এক বেদুইন রাখাল ঘাঁটির কাছাকাছি চলে গেলে একটি ইসরাইলি হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ইরাকি বাহিনীর একটি দল সেখানে নজরদারি অভিযানে গেলে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক ইরাকি সেনা নিহত এবং আরও দুইজন আহত হন।
এই ঘটনা ফাঁসের পর ইরাকি আইনপ্রণেতা ওয়াদ আল-কুদু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও আমাদের জনগণের মর্যাদার প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা।" তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং ঘাঁটির বিষয়ে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স (IDF) এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন