ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হওয়া এবং ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ সুদের হারের (yield) কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে। তবে আজ বুধবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নতুন করে বাড়েনি বা কমেনি, বরং একটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২০ মে) স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ছিল ৪,৪৮০.২৯ ডলার। এর আগে দিনের শুরুতে এটি গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গিয়েছিল। একই সময়ে জুন ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ০.৬ শতাংশ কমে ৪,৪৮২.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের বাজারের এই মন্দাভাবের পেছনে মূল কারণ হলো মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড, যা বর্তমানে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। যেহেতু স্বর্ণে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, তাই বাজারে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করাকে বেশি লাভজনক মনে করেন। ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। তাছাড়া ডলারের দাম বাড়ার কারণে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
তবে স্বর্ণের বাজারে এই মন্দাভাব থাকলেও আজ বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম কিছুটা বেড়েছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।
বিনিয়োগকারীরা এখন মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের গতিপ্রকৃতির দিকে তাকিয়ে আছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হবে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই খবরের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে, যদিও অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় চূড়ান্ত অগ্রগতি হলে এবং হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে খুলে গেলে জ্বালানি বাজারে চাপ কমবে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ভয় হ্রাস পাবে, যা স্বর্ণবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে বা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়লে মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও জোরালো হবে, যা স্বর্ণের দামে নতুন করে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে অবশ্য ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ মজুদ বাড়ানোর প্রবণতা এই বাজারকে কিছুটা ধরে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হওয়া এবং ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ সুদের হারের (yield) কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে। তবে আজ বুধবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নতুন করে বাড়েনি বা কমেনি, বরং একটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২০ মে) স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ছিল ৪,৪৮০.২৯ ডলার। এর আগে দিনের শুরুতে এটি গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গিয়েছিল। একই সময়ে জুন ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ০.৬ শতাংশ কমে ৪,৪৮২.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের বাজারের এই মন্দাভাবের পেছনে মূল কারণ হলো মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড, যা বর্তমানে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। যেহেতু স্বর্ণে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, তাই বাজারে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করাকে বেশি লাভজনক মনে করেন। ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। তাছাড়া ডলারের দাম বাড়ার কারণে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
তবে স্বর্ণের বাজারে এই মন্দাভাব থাকলেও আজ বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম কিছুটা বেড়েছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।
বিনিয়োগকারীরা এখন মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের গতিপ্রকৃতির দিকে তাকিয়ে আছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হবে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই খবরের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে, যদিও অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় চূড়ান্ত অগ্রগতি হলে এবং হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে খুলে গেলে জ্বালানি বাজারে চাপ কমবে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ভয় হ্রাস পাবে, যা স্বর্ণবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে বা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়লে মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও জোরালো হবে, যা স্বর্ণের দামে নতুন করে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে অবশ্য ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ মজুদ বাড়ানোর প্রবণতা এই বাজারকে কিছুটা ধরে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন