১৯৯৬ সালে দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করে মার্কিন নাগরিক হত্যার ষড়যন্ত্র ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগে কিউবার সাবেক কমিউনিস্ট নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালের পুরনো অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে গত বুধবার দায়ের করা এই মামলায় ৯৪ বছর বয়সি রাউল কাস্ত্রোসহ মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সেদিনের ওই বিমান হামলায় তিন মার্কিন নাগরিকসহ মোট চারজন নিহত হয়েছিলেন, যার জেরে তৎকালীন কিউবান সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস এবং চার নাগরিককে সরাসরি হত্যার অভিযোগ এনেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই ঘোষণা দিয়ে জানান যে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
কিউবার একদলীয় কমিউনিস্ট শাসনের ওপর ওয়াশিংটন যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে, ঠিক তখনই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ‘রাজনৈতিক চালবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেছেন যে সে সময় কিউবা বৈধ আত্মরক্ষার স্বার্থেই ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
এই আইনি পদক্ষেপের সমসাময়িক সময়ে কিউবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সে দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যেখানে তিনি দ্বীপাঞ্চলটিতে চলমান বিদ্যুৎ ও খাদ্য সংকটের জন্য কিউবান সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্যিক কনগ্লোমারেট ‘গায়েসা’-কে দায়ী করেন। রুবিওর এই বার্তার জবাবে প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল মার্কিন প্রশাসনকে মিথ্যাবাদী এবং কিউবান জনগণের ওপর সম্মিলিত শাস্তি চাপিয়ে দেওয়ার খলনায়ক হিসেবে অভিহিত করেন।
এদিকে মিয়ামির সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা কিউবান নির্বাসিত ও বিরোধী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক সদস্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মনে ভিন্ন সংশয় দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের চেষ্টার মতো রাউল কাস্ত্রোর ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক অভিযানের অজুহাত খুঁজছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
১৯৯৬ সালে দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করে মার্কিন নাগরিক হত্যার ষড়যন্ত্র ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগে কিউবার সাবেক কমিউনিস্ট নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালের পুরনো অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে গত বুধবার দায়ের করা এই মামলায় ৯৪ বছর বয়সি রাউল কাস্ত্রোসহ মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সেদিনের ওই বিমান হামলায় তিন মার্কিন নাগরিকসহ মোট চারজন নিহত হয়েছিলেন, যার জেরে তৎকালীন কিউবান সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস এবং চার নাগরিককে সরাসরি হত্যার অভিযোগ এনেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই ঘোষণা দিয়ে জানান যে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
কিউবার একদলীয় কমিউনিস্ট শাসনের ওপর ওয়াশিংটন যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে, ঠিক তখনই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ‘রাজনৈতিক চালবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেছেন যে সে সময় কিউবা বৈধ আত্মরক্ষার স্বার্থেই ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
এই আইনি পদক্ষেপের সমসাময়িক সময়ে কিউবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সে দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যেখানে তিনি দ্বীপাঞ্চলটিতে চলমান বিদ্যুৎ ও খাদ্য সংকটের জন্য কিউবান সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্যিক কনগ্লোমারেট ‘গায়েসা’-কে দায়ী করেন। রুবিওর এই বার্তার জবাবে প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল মার্কিন প্রশাসনকে মিথ্যাবাদী এবং কিউবান জনগণের ওপর সম্মিলিত শাস্তি চাপিয়ে দেওয়ার খলনায়ক হিসেবে অভিহিত করেন।
এদিকে মিয়ামির সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা কিউবান নির্বাসিত ও বিরোধী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক সদস্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মনে ভিন্ন সংশয় দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের চেষ্টার মতো রাউল কাস্ত্রোর ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক অভিযানের অজুহাত খুঁজছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

আপনার মতামত লিখুন