ঢাকা নিউজ

রোবট বাহিনী দিয়ে ৩৮ মাসে বিশ্বের বৃহত্তম রেলস্টেশন তৈরি চীনের



রোবট বাহিনী দিয়ে ৩৮ মাসে বিশ্বের বৃহত্তম রেলস্টেশন তৈরি চীনের
ছবি : সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফরকালে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটি ছিল মেঝের আয়তনের দিক থেকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশন ‘চংকিং ইস্ট রেলওয়ে স্টেশন’ নির্মাণের, যা মানুষ ও রোবটের সমন্বয়ে মাত্র ৩৮ মাসে তৈরি করে বিশ্বজুড়ে এক অবিশ্বাস্য নজির গড়েছে চীন। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র চংকিং শহরের দ্রুত বাড়তে থাকা যোগাযোগ চাহিদা পূরণ এবং বিদ্যমান উত্তর স্টেশনের ওপর চাপ কমাতে বিশাল এই বহুমুখী ট্রানজিট কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের মে মাসে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে বড় অবকাঠামো প্রকল্প শেষ করতে কয়েক দশক সময় নেয়, সেখানে চীন ১ দশমিক ২২ মিলিয়ন বর্গমিটারের এই বিশাল ৮ তলা বিশিষ্ট স্টেশনটি নির্মাণ করেছে মাত্র তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে। এই মেগা কমপ্লেক্সে ১৫টি প্ল্যাটফর্ম ও ২৯টি ট্র্যাক রয়েছে, যা তিনটি পৃথক রেল ইয়ার্ডে বিভক্ত এবং এটি ব্যস্ত সময়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী পরিচালনায় সক্ষম। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের মে মাসে নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৩৮ মাসে এই দুষ্কর প্রকল্প সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে মূলত এক ‘রোবট বিপ্লব’-এর কারণে।

৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পরিচালিত এই নির্মাণকাজে মানুষের শ্রম কমাতে এবং নিখুঁত কাজ নিশ্চিত করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক রোবট প্রযুক্তি। লাইডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফাইভ-জি প্রযুক্তি সংবলিত ‘লেজার-গাইডেড ফোর-হুইল স্ক্রিড রোবট’ মানুষের তুলনায় তিন গুণ দ্রুত এবং মিলিমিটার-নির্ভুলভাবে কংক্রিট লেভেলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে, যা শ্রম ব্যয় কমিয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এছাড়া ৮০০ কেজি ওজনের কাঁচের প্যানেল বসানোর কাজে বিশেষ ‘গ্লাস ইনস্টলেশন রোবট’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় তিন গুণ দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে।

নির্মাণকাজে আরও যুক্ত ছিল অমনিডাইরেকশনাল ওয়েল্ডিং রোবট এবং ২৪ ঘণ্টা টহল দেওয়া পাহারাদার রোবট। চায়না রেলওয়ে ব্যুরোর কর্মকর্তাদের দাবি, এই রোবোটিক্স প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সামগ্রিক শ্রম ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং কাজের গতি বেড়েছে তিন গুণ। বিশ্লেষকদের মতে, চংকিং ইস্ট রেলওয়ে স্টেশন শুধু একটি আধুনিক রেলস্টেশন নয়, বরং এটি বৃহৎ শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অবিশ্বাস্য গতি প্রদর্শনের এক অনন্য প্রতীক, যার কারণে গণপরিবহন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা ইলন মাস্কও এটি শেয়ার করতে বাধ্য হয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


রোবট বাহিনী দিয়ে ৩৮ মাসে বিশ্বের বৃহত্তম রেলস্টেশন তৈরি চীনের

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

সদ্য সমাপ্ত গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফরকালে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটি ছিল মেঝের আয়তনের দিক থেকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশন ‘চংকিং ইস্ট রেলওয়ে স্টেশন’ নির্মাণের, যা মানুষ ও রোবটের সমন্বয়ে মাত্র ৩৮ মাসে তৈরি করে বিশ্বজুড়ে এক অবিশ্বাস্য নজির গড়েছে চীন। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র চংকিং শহরের দ্রুত বাড়তে থাকা যোগাযোগ চাহিদা পূরণ এবং বিদ্যমান উত্তর স্টেশনের ওপর চাপ কমাতে বিশাল এই বহুমুখী ট্রানজিট কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের মে মাসে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে বড় অবকাঠামো প্রকল্প শেষ করতে কয়েক দশক সময় নেয়, সেখানে চীন ১ দশমিক ২২ মিলিয়ন বর্গমিটারের এই বিশাল ৮ তলা বিশিষ্ট স্টেশনটি নির্মাণ করেছে মাত্র তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে। এই মেগা কমপ্লেক্সে ১৫টি প্ল্যাটফর্ম ও ২৯টি ট্র্যাক রয়েছে, যা তিনটি পৃথক রেল ইয়ার্ডে বিভক্ত এবং এটি ব্যস্ত সময়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী পরিচালনায় সক্ষম। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের মে মাসে নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৩৮ মাসে এই দুষ্কর প্রকল্প সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে মূলত এক ‘রোবট বিপ্লব’-এর কারণে।

৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পরিচালিত এই নির্মাণকাজে মানুষের শ্রম কমাতে এবং নিখুঁত কাজ নিশ্চিত করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক রোবট প্রযুক্তি। লাইডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফাইভ-জি প্রযুক্তি সংবলিত ‘লেজার-গাইডেড ফোর-হুইল স্ক্রিড রোবট’ মানুষের তুলনায় তিন গুণ দ্রুত এবং মিলিমিটার-নির্ভুলভাবে কংক্রিট লেভেলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে, যা শ্রম ব্যয় কমিয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এছাড়া ৮০০ কেজি ওজনের কাঁচের প্যানেল বসানোর কাজে বিশেষ ‘গ্লাস ইনস্টলেশন রোবট’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় তিন গুণ দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে।

নির্মাণকাজে আরও যুক্ত ছিল অমনিডাইরেকশনাল ওয়েল্ডিং রোবট এবং ২৪ ঘণ্টা টহল দেওয়া পাহারাদার রোবট। চায়না রেলওয়ে ব্যুরোর কর্মকর্তাদের দাবি, এই রোবোটিক্স প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সামগ্রিক শ্রম ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং কাজের গতি বেড়েছে তিন গুণ। বিশ্লেষকদের মতে, চংকিং ইস্ট রেলওয়ে স্টেশন শুধু একটি আধুনিক রেলস্টেশন নয়, বরং এটি বৃহৎ শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অবিশ্বাস্য গতি প্রদর্শনের এক অনন্য প্রতীক, যার কারণে গণপরিবহন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা ইলন মাস্কও এটি শেয়ার করতে বাধ্য হয়েছেন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ