ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের পর সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে এক রিপোর্টে বড় দাবি করা হয়েছে। মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা গেছে, ইসরাইলি হামলায় আলী খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানের শীর্ষ ক্ষমতায় যে শূন্যতা তৈরি হয়, সেই অবস্থায় তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আনা হয়। তবে মোজতবা খামেনি আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বে থাকলেও বাস্তবে তিনি এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নেন না। বরং একটি ছোট ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী—যাদের বেশিরভাগই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বর্তমান ও সাবেক সিনিয়র কমান্ডার—তেহরানের নীতিনির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখছে।
এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে রিপোর্টে ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই দলের অনেকেই ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময় সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন এবং খুব অল্প বয়সেই জেনারেল পদে উন্নীত হন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা ধীরে ধীরে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। এই প্রভাবশালী কমান্ডারদের অনেকের সঙ্গেই মোজতবা খামেনির ব্যক্তিগত ও দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে, যা মূলত গড়ে উঠেছিল তার পিতার অফিসে কাজ করার সময় থেকে। বর্তমানে এই শক্তিশালী নেটওয়ার্কই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে এক ধরনের সমন্বিত চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোষ্ঠীর অভিন্ন সামরিক পটভূমি, কঠোর নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি এবং আদর্শিক অবস্থান ইরানের ক্ষমতার কাঠামোকে ভেঙে পড়তে না দিয়ে বরং আরও স্থিতিশীলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী সাঈদ গোলকার এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এই ‘ব্রাদারহুড’ নেটওয়ার্কের সদস্যরা একে অপরকে সূক্ষ্ম নজরদারিতে রাখে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর তাদের শক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে তারা ধীরে ধীরে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রায় সব দিকেই নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের পর সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে এক রিপোর্টে বড় দাবি করা হয়েছে। মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা গেছে, ইসরাইলি হামলায় আলী খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানের শীর্ষ ক্ষমতায় যে শূন্যতা তৈরি হয়, সেই অবস্থায় তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আনা হয়। তবে মোজতবা খামেনি আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বে থাকলেও বাস্তবে তিনি এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নেন না। বরং একটি ছোট ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী—যাদের বেশিরভাগই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বর্তমান ও সাবেক সিনিয়র কমান্ডার—তেহরানের নীতিনির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখছে।
এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে রিপোর্টে ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই দলের অনেকেই ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময় সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন এবং খুব অল্প বয়সেই জেনারেল পদে উন্নীত হন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা ধীরে ধীরে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। এই প্রভাবশালী কমান্ডারদের অনেকের সঙ্গেই মোজতবা খামেনির ব্যক্তিগত ও দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে, যা মূলত গড়ে উঠেছিল তার পিতার অফিসে কাজ করার সময় থেকে। বর্তমানে এই শক্তিশালী নেটওয়ার্কই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে এক ধরনের সমন্বিত চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোষ্ঠীর অভিন্ন সামরিক পটভূমি, কঠোর নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি এবং আদর্শিক অবস্থান ইরানের ক্ষমতার কাঠামোকে ভেঙে পড়তে না দিয়ে বরং আরও স্থিতিশীলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী সাঈদ গোলকার এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এই ‘ব্রাদারহুড’ নেটওয়ার্কের সদস্যরা একে অপরকে সূক্ষ্ম নজরদারিতে রাখে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর তাদের শক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে তারা ধীরে ধীরে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রায় সব দিকেই নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন