ঢাকা নিউজ

হজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ইরানে হামলা স্থগিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির আহ্বান



হজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ইরানে হামলা স্থগিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির আহ্বান
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছেন বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরব স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, পবিত্র হজ চলাকালীন এই ধরনের হামলা চালানো হলে মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন’ হতে পারে।

সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তি প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার পর ট্রাম্প দেশটিতে আবারও বিমান হামলা শুরু করার কড়া হুমকি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প নিজেই উল্লেখ করেছিলেন, তিনি ইরানের ওপর হামলা চালানোর ঠিক ‘এক ঘণ্টা আগের’ চূড়ান্ত অবস্থানে ছিলেন, কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের মধ্যস্থতায় তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন। মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল যে এই পবিত্র হজ মৌসুমে এবং এর পরপরই ঈদুল আজহা উদযাপনের সময়ে যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে অঞ্চলজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। এর ফলে হজে আসা লাখ লাখ পুণ্যার্থী সেখানে আটকা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতো।

আলোচনার বিষয়ে অবগত একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রাম্পের নিজস্ব পরামর্শক দলও তাকে সতর্ক করেছিল যে হজের সময় হামলা চালালে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিপর্যয় ডেকে আনবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, হজের আনুষ্ঠানিকতা এবং ইসলামের এই পবিত্র উৎসব শেষ হওয়ার পর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়, সেটির সময়কালের কারণে ইরানের অভ্যন্তরে এটিকে ‘রমজান যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, চলমান ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। সিএনএন-কে চারজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান ইতোমধ্যে তাদের ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো প্রতিস্থাপন করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, তারা এই যুদ্ধবিরতির সুযোগকে দেশের শক্তি এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্নির্মাণের কাজে সফলভাবে ব্যবহার করেছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় হামলা শুরু করে তবে ইরান এই সংঘাতকে আঞ্চলিক সীমানার বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উল্লেখ করেছেন যে, তেহরানের সাথে সাম্প্রতিক আলোচনায় অনেক ভালো অগ্রগতি হয়েছে, যদিও এর চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬


হজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ইরানে হামলা স্থগিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছেন বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরব স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, পবিত্র হজ চলাকালীন এই ধরনের হামলা চালানো হলে মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন’ হতে পারে।

সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তি প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার পর ট্রাম্প দেশটিতে আবারও বিমান হামলা শুরু করার কড়া হুমকি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প নিজেই উল্লেখ করেছিলেন, তিনি ইরানের ওপর হামলা চালানোর ঠিক ‘এক ঘণ্টা আগের’ চূড়ান্ত অবস্থানে ছিলেন, কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের মধ্যস্থতায় তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন। মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল যে এই পবিত্র হজ মৌসুমে এবং এর পরপরই ঈদুল আজহা উদযাপনের সময়ে যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে অঞ্চলজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। এর ফলে হজে আসা লাখ লাখ পুণ্যার্থী সেখানে আটকা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতো।

আলোচনার বিষয়ে অবগত একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রাম্পের নিজস্ব পরামর্শক দলও তাকে সতর্ক করেছিল যে হজের সময় হামলা চালালে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিপর্যয় ডেকে আনবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, হজের আনুষ্ঠানিকতা এবং ইসলামের এই পবিত্র উৎসব শেষ হওয়ার পর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়, সেটির সময়কালের কারণে ইরানের অভ্যন্তরে এটিকে ‘রমজান যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, চলমান ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। সিএনএন-কে চারজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান ইতোমধ্যে তাদের ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো প্রতিস্থাপন করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, তারা এই যুদ্ধবিরতির সুযোগকে দেশের শক্তি এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্নির্মাণের কাজে সফলভাবে ব্যবহার করেছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় হামলা শুরু করে তবে ইরান এই সংঘাতকে আঞ্চলিক সীমানার বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উল্লেখ করেছেন যে, তেহরানের সাথে সাম্প্রতিক আলোচনায় অনেক ভালো অগ্রগতি হয়েছে, যদিও এর চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ