ঢাকা নিউজ

নাগরিকদের ৩২ হাজার টন মজুত স্বর্ণ বাজারে ফেরাতে চান মোদি, কারণ কী?



নাগরিকদের ৩২ হাজার টন মজুত স্বর্ণ বাজারে ফেরাতে চান মোদি, কারণ কী?
ছবি : সংগৃহীত

ভারতীয় পরিবার ও মন্দির ট্রাস্টগুলোর কাছে বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টন ‘অব্যবহৃত’ স্বর্ণ মজুত রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশ থেকে নতুন স্বর্ণ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ঘরের এই অলস সম্পদকে রিসাইকেল বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে মূল অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। পুরোনো বা ভাঙা অলংকার গলিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত খাঁটি স্বর্ণে রূপান্তর করার এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো অলস সম্পদ সচল করে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং দেশের ভেতরে একটি শক্তিশালী সরবরাহ চেইন তৈরি করা।

সরকারের এই রিসাইক্লিংয়ের ওপর জোর দেওয়ার মূল কারণ ভারতের বিশাল আমদানি ব্যয় এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ। কেবল ২০২২৫-২৬ অর্থবছরেই দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ভারতকে প্রায় ৭ হাজার ২৪০ কোটি (৭২.৪ বিলিয়ন) ডলারের স্বর্ণ আমদানি করতে হয়েছে, যার ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায় এবং চলতি হিসাবের ঘাটতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণ রিসাইকেল করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে এবং সরকারের ‘স্বনির্ভর ভারত’ নীতি গতি পাবে; পাশাপাশি খনি থেকে নতুন স্বর্ণ উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়ায় এর একটি বড় পরিবেশগত সুবিধাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মোট মজুতের মাত্র ১ শতাংশ স্বর্ণও যদি প্রতি বছর রিসাইকেল করা যায়, তবে স্বর্ণ আমদানি প্রায় ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব, যা দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে। সাংস্কৃতিক ও আর্থিক মনস্তত্ত্বের কারণে ভারতীয়রা স্বর্ণকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিপদের বন্ধু হিসেবে লকারে অলস ফেলে রাখলেও, বর্তমানে স্বর্ণের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, জুয়েলার্সদের স্বচ্ছ এক্সচেঞ্জ পলিসি এবং নামমাত্র কর্তনে পুরোনো স্বর্ণ বদলে নতুন গহনা নেওয়ার সুযোগ তৈরির কারণে মানুষ এখন ক্রমেই রিসাইক্লিংয়ের দিকে ঝুঁকছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


নাগরিকদের ৩২ হাজার টন মজুত স্বর্ণ বাজারে ফেরাতে চান মোদি, কারণ কী?

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতীয় পরিবার ও মন্দির ট্রাস্টগুলোর কাছে বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টন ‘অব্যবহৃত’ স্বর্ণ মজুত রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশ থেকে নতুন স্বর্ণ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ঘরের এই অলস সম্পদকে রিসাইকেল বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে মূল অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। পুরোনো বা ভাঙা অলংকার গলিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত খাঁটি স্বর্ণে রূপান্তর করার এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো অলস সম্পদ সচল করে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং দেশের ভেতরে একটি শক্তিশালী সরবরাহ চেইন তৈরি করা।

সরকারের এই রিসাইক্লিংয়ের ওপর জোর দেওয়ার মূল কারণ ভারতের বিশাল আমদানি ব্যয় এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ। কেবল ২০২২৫-২৬ অর্থবছরেই দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ভারতকে প্রায় ৭ হাজার ২৪০ কোটি (৭২.৪ বিলিয়ন) ডলারের স্বর্ণ আমদানি করতে হয়েছে, যার ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায় এবং চলতি হিসাবের ঘাটতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণ রিসাইকেল করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে এবং সরকারের ‘স্বনির্ভর ভারত’ নীতি গতি পাবে; পাশাপাশি খনি থেকে নতুন স্বর্ণ উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়ায় এর একটি বড় পরিবেশগত সুবিধাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মোট মজুতের মাত্র ১ শতাংশ স্বর্ণও যদি প্রতি বছর রিসাইকেল করা যায়, তবে স্বর্ণ আমদানি প্রায় ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব, যা দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে। সাংস্কৃতিক ও আর্থিক মনস্তত্ত্বের কারণে ভারতীয়রা স্বর্ণকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিপদের বন্ধু হিসেবে লকারে অলস ফেলে রাখলেও, বর্তমানে স্বর্ণের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, জুয়েলার্সদের স্বচ্ছ এক্সচেঞ্জ পলিসি এবং নামমাত্র কর্তনে পুরোনো স্বর্ণ বদলে নতুন গহনা নেওয়ার সুযোগ তৈরির কারণে মানুষ এখন ক্রমেই রিসাইক্লিংয়ের দিকে ঝুঁকছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ