ঢাকা নিউজ

হরমুজ সংকট: বিকল্প পথে ২৭৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিশ্চিত করল দক্ষিণ কোরিয়া



হরমুজ সংকট: বিকল্প পথে ২৭৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিশ্চিত করল দক্ষিণ কোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) সিউলে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ খাঙ হুন-সিক জানান, চারটি দেশে বিশেষ কূটনৈতিক সফরের মাধ্যমে তারা ২৭৩ মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন।

সাফল্যের নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা: খাঙ হুন-সিক সম্প্রতি কাজাখস্তান, ওমান, সৌদি আরব ও কাতার সফর শেষ করে দেশে ফিরে এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই চুক্তির ফলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ যে পরিমাণ তেল আসবে, তা দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন মাসেরও বেশি সময়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। হরমুজ প্রণালি এড়ানোর জন্য বিকল্প রুট ও উৎস ব্যবহার করে এই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব: গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। এশিয়ার শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া জ্বালানি সংকটের ব্যাপক চাপে থাকলেও এই নতুন চুক্তির ফলে সেই উদ্বেগ অনেকটাই কেটে গেল।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত: জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার সময়ে সরাসরি বিকল্প উৎস থেকে এত বিশাল পরিমাণ তেলের সংস্থান করতে পারা সিউলের জন্য একটি বড় কৌশলগত জয়। এটি কেবল দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই জোরদার করবে না, বরং বিশ্ববাজারে তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব থেকেও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজ সংকট: বিকল্প পথে ২৭৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিশ্চিত করল দক্ষিণ কোরিয়া

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) সিউলে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ খাঙ হুন-সিক জানান, চারটি দেশে বিশেষ কূটনৈতিক সফরের মাধ্যমে তারা ২৭৩ মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন।

সাফল্যের নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা: খাঙ হুন-সিক সম্প্রতি কাজাখস্তান, ওমান, সৌদি আরব ও কাতার সফর শেষ করে দেশে ফিরে এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই চুক্তির ফলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ যে পরিমাণ তেল আসবে, তা দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন মাসেরও বেশি সময়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। হরমুজ প্রণালি এড়ানোর জন্য বিকল্প রুট ও উৎস ব্যবহার করে এই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব: গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। এশিয়ার শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া জ্বালানি সংকটের ব্যাপক চাপে থাকলেও এই নতুন চুক্তির ফলে সেই উদ্বেগ অনেকটাই কেটে গেল।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত: জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার সময়ে সরাসরি বিকল্প উৎস থেকে এত বিশাল পরিমাণ তেলের সংস্থান করতে পারা সিউলের জন্য একটি বড় কৌশলগত জয়। এটি কেবল দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই জোরদার করবে না, বরং বিশ্ববাজারে তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব থেকেও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ