ঢাকা নিউজ

ট্রাম্পকে যুদ্ধে উসকাতে ইসরাইলি প্রভাব ও সংবাদমাধ্যমের নীরবতা



ট্রাম্পকে যুদ্ধে উসকাতে ইসরাইলি প্রভাব ও সংবাদমাধ্যমের নীরবতা
ছবি: সংগ্রহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ঠেলে দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ বিদেশি নেতা হিসেবে অত্যন্ত অস্বাভাবিকভাবে একটি প্রেজেন্টেশন দেন নেতানিয়াহু। সেখানে মোসাদ প্রধান ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চূড়ান্তভাবে প্রভাবিত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের ওপর ইসরাইলের এই প্রকাশ্য প্রভাবের বিষয়টি রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে। প্রখ্যাত সাংবাদিক জেসন স্ট্যানলির মতে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা এড়িয়ে যাওয়া মূলত রাষ্ট্রীয় প্রোপাগান্ডারই একটি অংশ। মার্কিন নীতিতে রাশিয়ার প্রভাব নিয়ে সংবাদমাধ্যম যতটা সোচ্চার, ইসরাইলের ভূমিকার ক্ষেত্রে তারা ততটাই নীরব ভূমিকা পালন করছে।

এই নীরবতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে 'ইহুদি-বিদ্বেষ' (Antisemitism) তকমা পাওয়ার ভয়। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো মনে করে ইসরাইল রাষ্ট্রের সমালোচনা করা মানেই ইহুদিদের আক্রমণ করা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইল রাষ্ট্র এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীকে এক করে ফেলা একটি ভুল ধারণা। এই ধরনের স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ মূলত ইহুদি-বিদ্বেষী ভ্রান্ত ধারণাগুলোকেই সমাজে আরও শক্তিশালী করছে।

ইসরাইল বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের ওপর যে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তাকে আড়াল করা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। সমালোচকরা বলছেন, অন্য কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর অপরাধের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম সত্য প্রকাশে যতটা সাহসী, ইসরাইলের ক্ষেত্রে তাদের এই অবস্থান গণতন্ত্র ও মুক্ত সংবাদপত্রের জন্য উদ্বেগের। আংশিক সত্য প্রচারের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রকারান্তরে তাদের পরাধীনতাকেই প্রকাশ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


ট্রাম্পকে যুদ্ধে উসকাতে ইসরাইলি প্রভাব ও সংবাদমাধ্যমের নীরবতা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ঠেলে দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ বিদেশি নেতা হিসেবে অত্যন্ত অস্বাভাবিকভাবে একটি প্রেজেন্টেশন দেন নেতানিয়াহু। সেখানে মোসাদ প্রধান ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চূড়ান্তভাবে প্রভাবিত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের ওপর ইসরাইলের এই প্রকাশ্য প্রভাবের বিষয়টি রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে। প্রখ্যাত সাংবাদিক জেসন স্ট্যানলির মতে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা এড়িয়ে যাওয়া মূলত রাষ্ট্রীয় প্রোপাগান্ডারই একটি অংশ। মার্কিন নীতিতে রাশিয়ার প্রভাব নিয়ে সংবাদমাধ্যম যতটা সোচ্চার, ইসরাইলের ভূমিকার ক্ষেত্রে তারা ততটাই নীরব ভূমিকা পালন করছে।

এই নীরবতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে 'ইহুদি-বিদ্বেষ' (Antisemitism) তকমা পাওয়ার ভয়। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো মনে করে ইসরাইল রাষ্ট্রের সমালোচনা করা মানেই ইহুদিদের আক্রমণ করা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইল রাষ্ট্র এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীকে এক করে ফেলা একটি ভুল ধারণা। এই ধরনের স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ মূলত ইহুদি-বিদ্বেষী ভ্রান্ত ধারণাগুলোকেই সমাজে আরও শক্তিশালী করছে।

ইসরাইল বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের ওপর যে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তাকে আড়াল করা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। সমালোচকরা বলছেন, অন্য কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর অপরাধের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম সত্য প্রকাশে যতটা সাহসী, ইসরাইলের ক্ষেত্রে তাদের এই অবস্থান গণতন্ত্র ও মুক্ত সংবাদপত্রের জন্য উদ্বেগের। আংশিক সত্য প্রচারের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রকারান্তরে তাদের পরাধীনতাকেই প্রকাশ করছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ