ঢাকা নিউজ

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান গ্রামে ইসরাইলি হামলা



পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান গ্রামে ইসরাইলি হামলা
ছবি : সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতার অংশ হিসেবে এবার একটি ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান গ্রামে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে রামাল্লার পূর্বে অবস্থিত তাইবেহ গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে অগ্নিসংযোগ করে তারা।

এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও বসতি স্থাপনকারীদের চরমপন্থী সহিংসতা তীব্র রূপ ধারণ করেছে। সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক গ্রামের কাছে একটি নতুন অবৈধ ইসরাইলি বসতি গড়ে তোলার পর থেকেই তাইবেহ গ্রামটি বারবার তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

এর আগে গত বছর উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা গ্রামটির ঐতিহাসিক ‘চার্চ অব সেন্ট জর্জ’ এবং এর সংলগ্ন কবরস্থানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার পর ইসরাইলি বসতিগুলোর কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি পর্যন্ত বিরল নিন্দা প্রকাশ করেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক মহলের সেই সমালোচনাকে তোয়াক্কা না করেই গ্রামটিতে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

ঐতিহাসিক তাইবেহ গ্রামটি প্রায় ৩,০০০ বছরের পুরোনো এবং এর ইতিহাস কনানীয় আমল পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০১৭ সালের ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরোর আদমশুমারি অনুযায়ী, এখানে প্রধানত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী প্রায় ১,৩৪০ জন মানুষের বসবাস। উর্বর চারণভূমির জন্য পরিচিত এই অঞ্চলের বাসিন্দারা মূলত ভেড়া পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এই প্রাকৃতিক প্রাচুর্যই এখন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় বসতি স্থাপনকারীরা ক্রমাগত গ্রামটির জমি দখল করে নিচ্ছে।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা হলেও ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে তারা ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে প্রায় প্রতিদিন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শারীরিক হামলা চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনেও পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের এই নজিরবিহীন ও টেকসই সহিংসতার চিত্রটি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে সুস্পষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের ওপর এই হামলাগুলোকে শুধু প্রশ্রয়ই দিচ্ছে না, বরং তাদের সুরক্ষাও প্রদান করছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলীধরন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের এই অবিরাম ও দৈনিক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইল সরকারের আর্থিক সহায়তা, লজিস্টিক ব্যাকআপ এবং সামরিক সুরক্ষার ফলেই এই সহিংসতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০১৫ সালের তুলনায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২০২৬ সালেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কেবল এই বছরেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে এবং এই অবৈধ বসতিগুলো চিরতরে উচ্ছেদ করতে ইসরাইলের ওপর যেন সম্মিলিত চাপ প্রয়োগ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান গ্রামে ইসরাইলি হামলা

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতার অংশ হিসেবে এবার একটি ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান গ্রামে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে রামাল্লার পূর্বে অবস্থিত তাইবেহ গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে অগ্নিসংযোগ করে তারা।

এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও বসতি স্থাপনকারীদের চরমপন্থী সহিংসতা তীব্র রূপ ধারণ করেছে। সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক গ্রামের কাছে একটি নতুন অবৈধ ইসরাইলি বসতি গড়ে তোলার পর থেকেই তাইবেহ গ্রামটি বারবার তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

এর আগে গত বছর উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা গ্রামটির ঐতিহাসিক ‘চার্চ অব সেন্ট জর্জ’ এবং এর সংলগ্ন কবরস্থানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার পর ইসরাইলি বসতিগুলোর কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি পর্যন্ত বিরল নিন্দা প্রকাশ করেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক মহলের সেই সমালোচনাকে তোয়াক্কা না করেই গ্রামটিতে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

ঐতিহাসিক তাইবেহ গ্রামটি প্রায় ৩,০০০ বছরের পুরোনো এবং এর ইতিহাস কনানীয় আমল পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০১৭ সালের ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরোর আদমশুমারি অনুযায়ী, এখানে প্রধানত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী প্রায় ১,৩৪০ জন মানুষের বসবাস। উর্বর চারণভূমির জন্য পরিচিত এই অঞ্চলের বাসিন্দারা মূলত ভেড়া পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এই প্রাকৃতিক প্রাচুর্যই এখন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় বসতি স্থাপনকারীরা ক্রমাগত গ্রামটির জমি দখল করে নিচ্ছে।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা হলেও ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে তারা ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে প্রায় প্রতিদিন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শারীরিক হামলা চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনেও পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের এই নজিরবিহীন ও টেকসই সহিংসতার চিত্রটি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে সুস্পষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের ওপর এই হামলাগুলোকে শুধু প্রশ্রয়ই দিচ্ছে না, বরং তাদের সুরক্ষাও প্রদান করছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলীধরন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের এই অবিরাম ও দৈনিক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইল সরকারের আর্থিক সহায়তা, লজিস্টিক ব্যাকআপ এবং সামরিক সুরক্ষার ফলেই এই সহিংসতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০১৫ সালের তুলনায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২০২৬ সালেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কেবল এই বছরেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে এবং এই অবৈধ বসতিগুলো চিরতরে উচ্ছেদ করতে ইসরাইলের ওপর যেন সম্মিলিত চাপ প্রয়োগ করা হয়।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ