ঢাকা নিউজ

রাজশাহীতে শ্রমিক সংঘর্ষের মামলায় ৪ বছর আগে মৃত কিশোরকে আসামি



রাজশাহীতে শ্রমিক সংঘর্ষের মামলায় ৪ বছর আগে মৃত কিশোরকে আসামি
ছবি: সংগ্রহীত

রাজশাহী বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শ্রমিক দলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বোমাবাজির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ২৩ এপ্রিলের ওই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা একটি মামলায় ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে সানি (১৭) নামের এক কিশোরকে, যে কি না ৪ বছর আগেই কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হয়েছিল। মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, মৃত সানি ঘটনার দিন সশরীরে উপস্থিত থেকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন এবং অস্ত্র হাতে বাদীকে ধাওয়া করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রফিকুল ইসলাম পাখি ও প্রতিপক্ষ গ্রুপের মধ্যে গত ২২ ও ২৩ এপ্রিল শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ২৪ এপ্রিল শাজাহান আলী নামে এক শ্রমিক বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। নথিপত্র অনুযায়ী, ৩ নম্বর আসামি সানিকে ২০২২ সালের ৩ জুলাই অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছিল, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার বিষয়ে বাদী শাজাহান আলী স্বীকার করেছেন যে, সবার নাম বসাতে গিয়ে ভুলবশত সানির নাম চলে এসেছে। তিনি বিষয়টি সংশোধনের জন্য পুলিশকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, মামলা রেকর্ডের সময় প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে ত্রুটি ছিল। তবে পুলিশ ইতিমধ্যে আদালতকে জানিয়েছে যে ৩ নম্বর আসামি কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন।

এই ঘটনায় মহানগর শ্রমিক দল সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিপক্ষরা তার কার্যালয় দখল ও ভাঙচুর করার পর উল্টো তার মৃত ছেলেকেও মামলার আসামি করে হয়রানি করছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, টার্মিনাল থেকে ওঠা বিপুল পরিমাণ চাঁদার নিয়ন্ত্রণ নিতেই শ্রমিকদের এই কোন্দল। এই মামলায় কেবল মৃত কিশোর নয়, বরং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এমন অনেককেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


রাজশাহীতে শ্রমিক সংঘর্ষের মামলায় ৪ বছর আগে মৃত কিশোরকে আসামি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজশাহী বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শ্রমিক দলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বোমাবাজির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ২৩ এপ্রিলের ওই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা একটি মামলায় ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে সানি (১৭) নামের এক কিশোরকে, যে কি না ৪ বছর আগেই কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হয়েছিল। মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, মৃত সানি ঘটনার দিন সশরীরে উপস্থিত থেকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন এবং অস্ত্র হাতে বাদীকে ধাওয়া করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রফিকুল ইসলাম পাখি ও প্রতিপক্ষ গ্রুপের মধ্যে গত ২২ ও ২৩ এপ্রিল শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ২৪ এপ্রিল শাজাহান আলী নামে এক শ্রমিক বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। নথিপত্র অনুযায়ী, ৩ নম্বর আসামি সানিকে ২০২২ সালের ৩ জুলাই অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছিল, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার বিষয়ে বাদী শাজাহান আলী স্বীকার করেছেন যে, সবার নাম বসাতে গিয়ে ভুলবশত সানির নাম চলে এসেছে। তিনি বিষয়টি সংশোধনের জন্য পুলিশকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, মামলা রেকর্ডের সময় প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে ত্রুটি ছিল। তবে পুলিশ ইতিমধ্যে আদালতকে জানিয়েছে যে ৩ নম্বর আসামি কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন।

এই ঘটনায় মহানগর শ্রমিক দল সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিপক্ষরা তার কার্যালয় দখল ও ভাঙচুর করার পর উল্টো তার মৃত ছেলেকেও মামলার আসামি করে হয়রানি করছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, টার্মিনাল থেকে ওঠা বিপুল পরিমাণ চাঁদার নিয়ন্ত্রণ নিতেই শ্রমিকদের এই কোন্দল। এই মামলায় কেবল মৃত কিশোর নয়, বরং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এমন অনেককেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ