ঢাকা নিউজ

বাবার কফিনবন্দি লাশের সামনে ১০ মাসের অবুঝ শিশু



বাবার কফিনবন্দি লাশের সামনে ১০ মাসের অবুঝ শিশু
ছবি : সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। সৌদি আরব প্রবাসী মুরাদ হোসেন (৩৬) তার ১০ মাসের ছেলেকে প্রথমবার দেখলেন, তবে জীবিত অবস্থায় নয়—কফিনবন্দি নিথর দেহ হয়ে। শনিবার (৯ মে) ভোরে তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

  • বিদেশে পাড়ি: ১৪ মাস আগে মুরাদ হোসেন তার স্ত্রীকে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রেখে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান।

  • পুত্রের জন্ম: তার বিদেশে যাওয়ার ৪ মাস পর জন্ম নেয় ছোট ছেলে রাফি। বর্তমানে রাফির বয়স ১০ মাস।

  • স্বপ্নভঙ্গ: মুরাদের ইচ্ছে ছিল এবারের কোরবানির ঈদে দেশে ফিরে ছেলেকে প্রথমবার কোলে তুলে নেবেন। কিন্তু গত ২৩ এপ্রিল সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার সেই স্বপ্ন চিরতরে বিলীন হয়ে যায়।

পরিবারের করুণ আর্তনাদ

মুরাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্ত্রী আন্জুয়ারা, দুই কন্যা এবং ১০ মাসের শিশুপুত্র রাফির কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। জানাজায় উপস্থিত আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীরা এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। মুরাদের বড় ভাই জানান, পরিবারে তিনটি ছোট সন্তান রেখে তিনি চলে গেছেন, যাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

আর্থিক সংকট ও হারানো স্বপ্ন

মুরাদের মামাশ্বশুর লুৎফর রহমান জানান, বিদেশে যাওয়ার সময় মুরাদ প্রায় ৫ লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার কাছে আকামা করার জন্য ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল, যার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে উপার্জক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম সংকটে।

শনিবার বেলা ১১টায় স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে মুরাদ হোসেনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সন্তানদের নিয়ে এখন দিশেহারা মুরাদের পরিবার সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


বাবার কফিনবন্দি লাশের সামনে ১০ মাসের অবুঝ শিশু

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। সৌদি আরব প্রবাসী মুরাদ হোসেন (৩৬) তার ১০ মাসের ছেলেকে প্রথমবার দেখলেন, তবে জীবিত অবস্থায় নয়—কফিনবন্দি নিথর দেহ হয়ে। শনিবার (৯ মে) ভোরে তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

  • বিদেশে পাড়ি: ১৪ মাস আগে মুরাদ হোসেন তার স্ত্রীকে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রেখে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান।

  • পুত্রের জন্ম: তার বিদেশে যাওয়ার ৪ মাস পর জন্ম নেয় ছোট ছেলে রাফি। বর্তমানে রাফির বয়স ১০ মাস।

  • স্বপ্নভঙ্গ: মুরাদের ইচ্ছে ছিল এবারের কোরবানির ঈদে দেশে ফিরে ছেলেকে প্রথমবার কোলে তুলে নেবেন। কিন্তু গত ২৩ এপ্রিল সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার সেই স্বপ্ন চিরতরে বিলীন হয়ে যায়।

পরিবারের করুণ আর্তনাদ

মুরাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্ত্রী আন্জুয়ারা, দুই কন্যা এবং ১০ মাসের শিশুপুত্র রাফির কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। জানাজায় উপস্থিত আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীরা এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। মুরাদের বড় ভাই জানান, পরিবারে তিনটি ছোট সন্তান রেখে তিনি চলে গেছেন, যাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

আর্থিক সংকট ও হারানো স্বপ্ন

মুরাদের মামাশ্বশুর লুৎফর রহমান জানান, বিদেশে যাওয়ার সময় মুরাদ প্রায় ৫ লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার কাছে আকামা করার জন্য ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল, যার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে উপার্জক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম সংকটে।

শনিবার বেলা ১১টায় স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে মুরাদ হোসেনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সন্তানদের নিয়ে এখন দিশেহারা মুরাদের পরিবার সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ