বৃষ্টি মহান আল্লাহর এক অনন্য নেয়ামত ও রহমতের নিদর্শন। ইসলামে বৃষ্টিকে কেবল প্রাকৃতিক পরিবর্তন হিসেবে না দেখে আল্লাহর দয়া ও বরকতের প্রকাশ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বৃষ্টির সময় আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকতেন এবং উম্মতকে বিশেষ কিছু আমল ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। বৃষ্টির সময় একজন মুমিনের প্রধান কাজ হলো সুন্নাহ অনুসরণ করে আল্লাহর রহমতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
বৃষ্টির সময় নবীজি (সা.) আল্লাহর কাছে কল্যাণকর বৃষ্টির প্রার্থনা করতেন। তিনি 'আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআ' বলে দোয়া করতেন, যার অর্থ হলো— হে আল্লাহ, আমাদের কল্যাণকর বৃষ্টি দান করুন। তবে বৃষ্টি যদি অতিবর্ষণ বা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াত, তবে তিনি জনবসতির বাইরে বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন। এ সময় তিনি আল্লাহর ভয়ে ভীত হতেন এবং ঝোড়ো বাতাসের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।
নবীজি (সা.)-এর অন্যতম একটি চমৎকার সুন্নাহ হলো বৃষ্টিতে শরীর ভেজানো। তিনি বৃষ্টির পানি গায়ে লাগাতেন কারণ এটি মহান রবের কাছ থেকে সরাসরি আগত রহমত। হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, বৃষ্টি এলে আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁর পোশাকের কিছু অংশ সরিয়ে দিতেন যাতে তাঁর শরীর বৃষ্টির বরকত লাভে সিক্ত হয়। তিনি বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত হিসেবে অভিহিত করতেন এবং বৃষ্টির সময়কে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে গুরুত্ব দিতেন।
সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, আজানের সময় এবং রণাঙ্গনে শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময়ের মতো বৃষ্টির সময় করা দোয়াও মহান আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না। তাই বৃষ্টি চলাকালে নিজের নেক মাকসুদ হাসিলের জন্য আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি প্রার্থনা করা মুমিনের জন্য কল্যাণকর। নবীজির (সা.) এসব আমল আমাদের শেখায় যে, প্রকৃতির প্রতিটি নিদর্শনের মাঝেই আল্লাহর কুদরত উপলব্ধি করা এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করাই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
বৃষ্টি মহান আল্লাহর এক অনন্য নেয়ামত ও রহমতের নিদর্শন। ইসলামে বৃষ্টিকে কেবল প্রাকৃতিক পরিবর্তন হিসেবে না দেখে আল্লাহর দয়া ও বরকতের প্রকাশ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বৃষ্টির সময় আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকতেন এবং উম্মতকে বিশেষ কিছু আমল ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। বৃষ্টির সময় একজন মুমিনের প্রধান কাজ হলো সুন্নাহ অনুসরণ করে আল্লাহর রহমতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
বৃষ্টির সময় নবীজি (সা.) আল্লাহর কাছে কল্যাণকর বৃষ্টির প্রার্থনা করতেন। তিনি 'আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআ' বলে দোয়া করতেন, যার অর্থ হলো— হে আল্লাহ, আমাদের কল্যাণকর বৃষ্টি দান করুন। তবে বৃষ্টি যদি অতিবর্ষণ বা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াত, তবে তিনি জনবসতির বাইরে বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন। এ সময় তিনি আল্লাহর ভয়ে ভীত হতেন এবং ঝোড়ো বাতাসের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।
নবীজি (সা.)-এর অন্যতম একটি চমৎকার সুন্নাহ হলো বৃষ্টিতে শরীর ভেজানো। তিনি বৃষ্টির পানি গায়ে লাগাতেন কারণ এটি মহান রবের কাছ থেকে সরাসরি আগত রহমত। হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, বৃষ্টি এলে আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁর পোশাকের কিছু অংশ সরিয়ে দিতেন যাতে তাঁর শরীর বৃষ্টির বরকত লাভে সিক্ত হয়। তিনি বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত হিসেবে অভিহিত করতেন এবং বৃষ্টির সময়কে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে গুরুত্ব দিতেন।
সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, আজানের সময় এবং রণাঙ্গনে শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময়ের মতো বৃষ্টির সময় করা দোয়াও মহান আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না। তাই বৃষ্টি চলাকালে নিজের নেক মাকসুদ হাসিলের জন্য আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি প্রার্থনা করা মুমিনের জন্য কল্যাণকর। নবীজির (সা.) এসব আমল আমাদের শেখায় যে, প্রকৃতির প্রতিটি নিদর্শনের মাঝেই আল্লাহর কুদরত উপলব্ধি করা এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করাই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।

আপনার মতামত লিখুন