ঢাকা নিউজ

ইবোলায় কঙ্গো-উগান্ডায় মৃত্যু ৮০ ছাড়াল



ইবোলায় কঙ্গো-উগান্ডায় মৃত্যু ৮০ ছাড়াল
ছবি : সংগৃহীত

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ভাইরাসটির নতুন সংক্রমণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ইবোলা ভাইরাসের ‘বুনডিবুগিও’ (Bundibugyo) নামক একটি বিশেষ ধরন থেকে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির মানদণ্ডে না পৌঁছালেও কঙ্গোর সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সংক্রমণ ও ভৌগোলিক পরিস্থিতি রোববার (১৭ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে অন্তত ৮০টি সন্দেহজনক মৃত্যু, ৮টি ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ২৪৬টি সন্দেহভাজন কেস শনাক্ত হয়েছে। বুনিয়া, রামওয়ারা ও মঙ্গবালু স্বাস্থ্য অঞ্চলে এই সংক্রমণ তীব্র। এছাড়া, পূর্ব কঙ্গোর গুরুত্বপূর্ণ শহর গোমা এবং উগান্ডার রাজধানী কাম্পালাতেও কঙ্গো থেকে আসা ব্যক্তিদের শরীরে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে উগান্ডায় একজন মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈশ্বিক উদ্বেগ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, কঙ্গোতে অবস্থানরত অন্তত ৬ জন মার্কিন নাগরিক ইবোলা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন, যার মধ্যে ৩ জনের সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং একজনের শরীরে ইতোমধ্যে উপসর্গ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি) তাদের জরুরি প্রতিক্রিয়া কেন্দ্র সক্রিয় করেছে এবং আক্রান্ত অঞ্চলে আরও বিশেষজ্ঞ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এই সংক্রমণের ঝুঁকি কম বলে আশ্বস্ত করেছে সিডিসি।

চিকিৎসা ও টিকার সংকট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবারের প্রাদুর্ভাবটিকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কারণ কঙ্গোতে অতীতে হওয়া অধিকাংশ প্রাদুর্ভাব ‘জাইর’ (Zaire) প্রজাতির ভাইরাসের কারণে হলেও এবার ছড়ানো ‘বুনডিবুগিও’ ধরনের জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।

ডব্লিউএইচও ও আফ্রিকা সিডিসির নির্দেশনা সীমান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে ডব্লিউএইচও পরামর্শ দিয়েছে যে, নিশ্চিত আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত আইসোলেশনে নিতে হবে এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অন্তত ২১ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তবে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজনদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বলা হলেও সামগ্রিকভাবে সীমান্ত বন্ধ বা বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। কারণ এতে মানুষ নজরদারিবিহীন বিকল্প পথে সীমান্ত পার হতে পারে, যা সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।

এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় এটিকে ‘মহাদেশীয় জননিরাপত্তা জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জিন কাসেয়া।


ইবোলা ভাইরাস কী? ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরল (রক্ত, লালা ইত্যাদি), দূষিত বস্তু কিংবা মৃতদেহের সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


ইবোলায় কঙ্গো-উগান্ডায় মৃত্যু ৮০ ছাড়াল

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ভাইরাসটির নতুন সংক্রমণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ইবোলা ভাইরাসের ‘বুনডিবুগিও’ (Bundibugyo) নামক একটি বিশেষ ধরন থেকে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির মানদণ্ডে না পৌঁছালেও কঙ্গোর সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সংক্রমণ ও ভৌগোলিক পরিস্থিতি রোববার (১৭ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে অন্তত ৮০টি সন্দেহজনক মৃত্যু, ৮টি ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ২৪৬টি সন্দেহভাজন কেস শনাক্ত হয়েছে। বুনিয়া, রামওয়ারা ও মঙ্গবালু স্বাস্থ্য অঞ্চলে এই সংক্রমণ তীব্র। এছাড়া, পূর্ব কঙ্গোর গুরুত্বপূর্ণ শহর গোমা এবং উগান্ডার রাজধানী কাম্পালাতেও কঙ্গো থেকে আসা ব্যক্তিদের শরীরে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে উগান্ডায় একজন মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈশ্বিক উদ্বেগ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, কঙ্গোতে অবস্থানরত অন্তত ৬ জন মার্কিন নাগরিক ইবোলা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন, যার মধ্যে ৩ জনের সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং একজনের শরীরে ইতোমধ্যে উপসর্গ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি) তাদের জরুরি প্রতিক্রিয়া কেন্দ্র সক্রিয় করেছে এবং আক্রান্ত অঞ্চলে আরও বিশেষজ্ঞ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এই সংক্রমণের ঝুঁকি কম বলে আশ্বস্ত করেছে সিডিসি।

চিকিৎসা ও টিকার সংকট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবারের প্রাদুর্ভাবটিকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কারণ কঙ্গোতে অতীতে হওয়া অধিকাংশ প্রাদুর্ভাব ‘জাইর’ (Zaire) প্রজাতির ভাইরাসের কারণে হলেও এবার ছড়ানো ‘বুনডিবুগিও’ ধরনের জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।

ডব্লিউএইচও ও আফ্রিকা সিডিসির নির্দেশনা সীমান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে ডব্লিউএইচও পরামর্শ দিয়েছে যে, নিশ্চিত আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত আইসোলেশনে নিতে হবে এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অন্তত ২১ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তবে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজনদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বলা হলেও সামগ্রিকভাবে সীমান্ত বন্ধ বা বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। কারণ এতে মানুষ নজরদারিবিহীন বিকল্প পথে সীমান্ত পার হতে পারে, যা সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।

এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় এটিকে ‘মহাদেশীয় জননিরাপত্তা জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জিন কাসেয়া।


ইবোলা ভাইরাস কী? ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরল (রক্ত, লালা ইত্যাদি), দূষিত বস্তু কিংবা মৃতদেহের সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ