শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি উপেক্ষা করে অবশেষে শিক্ষার্থীশূন্য ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। নিয়োগ পাওয়ার আট দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে নিজ কার্যালয়ে বসেন।
ডুয়েটের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্য কার্যালয়ে আসার পর শিক্ষক ও কর্মচারীরা নতুন ভিসিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরের সভাকক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে এবং তার আগের দিন বুধবার গাজীপুর উপজেলা পরিষদে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ভিসি। বৃহস্পতিবারের বৈঠক শেষে শিক্ষক ও কর্মচারীরাই ভিসিকে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পর পরই ডুয়েটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগের দাবিতে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর’ ব্যানারে আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। আন্দোলনকারীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন, তাই এখানকার শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। এই আন্দোলনের পেছনে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হামলা-মামলায় রূপ নেয়। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে ‘লাল কার্ড’ টাঙানো হয় এবং পক্ষে-বিপক্ষে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন এবং পরবর্তীতে ২ হাজার ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
টানা আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে গত মঙ্গলবার বিকালে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র হাসানুর রহমান পুরো ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর মঙ্গলবার রাতেই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছেড়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং বুধবার সকালে পুরো ক্যাম্পাস একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও, ভিসি দৃশ্যত শিক্ষকদের সহযোগিতায় কর্মস্থলে যোগ দিলেন।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি উপেক্ষা করে অবশেষে শিক্ষার্থীশূন্য ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। নিয়োগ পাওয়ার আট দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে নিজ কার্যালয়ে বসেন।
ডুয়েটের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্য কার্যালয়ে আসার পর শিক্ষক ও কর্মচারীরা নতুন ভিসিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরের সভাকক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে এবং তার আগের দিন বুধবার গাজীপুর উপজেলা পরিষদে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ভিসি। বৃহস্পতিবারের বৈঠক শেষে শিক্ষক ও কর্মচারীরাই ভিসিকে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পর পরই ডুয়েটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগের দাবিতে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর’ ব্যানারে আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। আন্দোলনকারীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন, তাই এখানকার শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। এই আন্দোলনের পেছনে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হামলা-মামলায় রূপ নেয়। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে ‘লাল কার্ড’ টাঙানো হয় এবং পক্ষে-বিপক্ষে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন এবং পরবর্তীতে ২ হাজার ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
টানা আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে গত মঙ্গলবার বিকালে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র হাসানুর রহমান পুরো ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর মঙ্গলবার রাতেই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছেড়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং বুধবার সকালে পুরো ক্যাম্পাস একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও, ভিসি দৃশ্যত শিক্ষকদের সহযোগিতায় কর্মস্থলে যোগ দিলেন।

আপনার মতামত লিখুন