ঢাকা নিউজ

সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েও চাকরি করছেন নারী পুলিশ সদস্য



সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েও চাকরি করছেন নারী পুলিশ সদস্য
ছবি : সংগৃহীত

আদালতের দেওয়া ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার পরও চাকরিতে বহাল রয়েছেন নারী পুলিশ সদস্য রোজিনা আক্তার। অভিযুক্ত রোজিনা আক্তার নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া পূর্বধলা থানার সরাপাড়া গ্রামের মো. আবু তাহেরের মেয়ে। তিনি এক সময় শেরপুর সদর পুলিশ লাইনসে কর্মরত থাকলেও বর্তমানে জামালপুর জেলা পুলিশ লাইনসে কর্মরত রয়েছেন। শেরপুর জেলায় কর্মরত থাকাকালীন তিনি জেলা শহরের চকপাঠস্থ নয়ানী সমাজ মহল্লায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

নথিপত্র ও মামলার বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চেক জালিয়াতি মামলার আগে জেলার শ্রীবরদী উপজেলার রেখা পারভিন নামে এক নারীর দায়ের করা জালিয়াতির মামলায় শ্রীবরদী সিআর আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে রোজিনাকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই মামলার সাজা কার্যকর হওয়ার আগেই তিনি নতুন করে আরেকটি প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। সর্বশেষ দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে শেরপুর সদর উপজেলার চকপাঠক এলাকার বাসিন্দা মো. রমজান আলীর কাছ থেকে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ পারিবারিক প্রয়োজনের কথা বলে নগদ ১০ লাখ টাকা ধার নেন রোজিনা।

ঋণের বিপরীতে তিনি প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড শেরপুর শাখার একটি চেক প্রদান করলেও হিসাব নম্বরে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ব্যাংক থেকে চেকটি ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে। পরবর্তীতে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও রোজিনা আক্তার টাকা পরিশোধ না করায় বাদী শেরপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আদালত থেকে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি শুনানিতে অনুপস্থিত থাকেন। এরপর শেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৫ ধারা মোতাবেক ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পাঠালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং তাকে শেরপুর থেকে জামালপুর পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়।

সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আদালতে ফৌজদারি অপরাধে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে রোজিনা আক্তারের ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন এবং একজন সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত ব্যক্তি কিভাবে নিয়মিত চাকরিতে বহাল থাকেন তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মামলার বাদী মো. রমজান আলী জানান, রোজিনা পুলিশের পোশাক পরে নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে টাকা নিয়েছিলেন এবং তিনি এই ঘটনার ন্যায়বিচার চান।

শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে রোজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টকৃত নোটিশটি তার নিজ জেলায় পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে তার বর্তমান কর্মস্থল জামালপুরে পাঠানো হবে। জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিনও জানিয়েছেন যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ওয়ারেন্টটি তার বাড়ি নেত্রকোনায় পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নারী পুলিশ সদস্য রোজিনা আক্তার দাবি করেছেন, পাওনাদারের কাছ থেকে টাকা পরিশোধ করার জন্য তিনি সময় নিয়েছেন এবং তিন বছরের সাজার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬


সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েও চাকরি করছেন নারী পুলিশ সদস্য

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

আদালতের দেওয়া ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার পরও চাকরিতে বহাল রয়েছেন নারী পুলিশ সদস্য রোজিনা আক্তার। অভিযুক্ত রোজিনা আক্তার নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া পূর্বধলা থানার সরাপাড়া গ্রামের মো. আবু তাহেরের মেয়ে। তিনি এক সময় শেরপুর সদর পুলিশ লাইনসে কর্মরত থাকলেও বর্তমানে জামালপুর জেলা পুলিশ লাইনসে কর্মরত রয়েছেন। শেরপুর জেলায় কর্মরত থাকাকালীন তিনি জেলা শহরের চকপাঠস্থ নয়ানী সমাজ মহল্লায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

নথিপত্র ও মামলার বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চেক জালিয়াতি মামলার আগে জেলার শ্রীবরদী উপজেলার রেখা পারভিন নামে এক নারীর দায়ের করা জালিয়াতির মামলায় শ্রীবরদী সিআর আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে রোজিনাকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই মামলার সাজা কার্যকর হওয়ার আগেই তিনি নতুন করে আরেকটি প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। সর্বশেষ দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে শেরপুর সদর উপজেলার চকপাঠক এলাকার বাসিন্দা মো. রমজান আলীর কাছ থেকে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ পারিবারিক প্রয়োজনের কথা বলে নগদ ১০ লাখ টাকা ধার নেন রোজিনা।

ঋণের বিপরীতে তিনি প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড শেরপুর শাখার একটি চেক প্রদান করলেও হিসাব নম্বরে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ব্যাংক থেকে চেকটি ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে। পরবর্তীতে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও রোজিনা আক্তার টাকা পরিশোধ না করায় বাদী শেরপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আদালত থেকে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি শুনানিতে অনুপস্থিত থাকেন। এরপর শেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৫ ধারা মোতাবেক ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পাঠালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং তাকে শেরপুর থেকে জামালপুর পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়।

সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আদালতে ফৌজদারি অপরাধে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে রোজিনা আক্তারের ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন এবং একজন সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত ব্যক্তি কিভাবে নিয়মিত চাকরিতে বহাল থাকেন তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মামলার বাদী মো. রমজান আলী জানান, রোজিনা পুলিশের পোশাক পরে নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে টাকা নিয়েছিলেন এবং তিনি এই ঘটনার ন্যায়বিচার চান।

শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে রোজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টকৃত নোটিশটি তার নিজ জেলায় পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে তার বর্তমান কর্মস্থল জামালপুরে পাঠানো হবে। জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিনও জানিয়েছেন যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ওয়ারেন্টটি তার বাড়ি নেত্রকোনায় পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নারী পুলিশ সদস্য রোজিনা আক্তার দাবি করেছেন, পাওনাদারের কাছ থেকে টাকা পরিশোধ করার জন্য তিনি সময় নিয়েছেন এবং তিন বছরের সাজার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ