ঈদুল আজহার আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গবাদিপশু কোরবানি নিয়ন্ত্রণের আদেশ বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পল ও বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের বেঞ্চ মন্তব্য করেছে, গরু কোরবানি ঈদুল আজহার অংশ নয় এবং ইসলামে এটি ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলকও নয়। একাধিক জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারের আদেশ বাতিল এবং অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়ার দাবি জানানো হলেও আদালত সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি।
তবে আদালত রাজ্য সরকারকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট বিষয় বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। সেটি হলো— ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু কোরবানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ নম্বর ধারায় ধর্মীয়, ওষুধ বা গবেষণার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পশু কোরবানির ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের আছে কি না। আগামী ২৭ ও ২৮ মে ঈদ উদযাপিত হওয়ার কথা থাকায় এবং হাতে সময় কম থাকায় আদালতকে এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া খোলা জায়গায় পশু কোরবানি করা যাবে না— এমন একটি শর্ত আদেশে যোগ করার বিষয়টিও ভেবে দেখতে রাজ্য সরকারকে বলেছে আদালত।
এর আগে গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার একটি আদেশ জারি করেছিল, যেখানে ১৯৫০ সালের আইন ও ২০১৮ সালের হাইকোর্টের একটি রায়ের সূত্র উল্লেখ করা হয়। এই দুটি নির্দেশনাই স্পষ্ট করে যে, নির্দিষ্ট ‘কোরবানির উপযুক্ত’ সনদ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো গরু ও মহিষ কোরবানি করা যাবে না। আদালতের এই আইনের সাংবিধানিকতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন যে, এই আইনটি মূলত কলকাতা ও অন্যান্য পৌরসভার জন্য তৈরি হয়েছিল, পুরো রাজ্যের জন্য নয়। তবে আদালত এই যুক্তিতে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি।
এদিকে কলকাতা পৌরসংস্থার আইনজীবী নীলোৎপল চ্যাটার্জি আদালতকে নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ আধুনিক জবাইখানা রয়েছে এবং কোরবানির উপযুক্ততার সনদ দেওয়ার জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তাও নিয়োজিত আছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সনদ দেওয়ার সঠিক ব্যবস্থা বজায় আছে কি না তা দেখার মূল দায়িত্ব রাজ্যের। পাশাপাশি নিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি বা ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে বলেও আদালত আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
ঈদুল আজহার আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গবাদিপশু কোরবানি নিয়ন্ত্রণের আদেশ বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পল ও বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের বেঞ্চ মন্তব্য করেছে, গরু কোরবানি ঈদুল আজহার অংশ নয় এবং ইসলামে এটি ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলকও নয়। একাধিক জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারের আদেশ বাতিল এবং অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়ার দাবি জানানো হলেও আদালত সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি।
তবে আদালত রাজ্য সরকারকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট বিষয় বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। সেটি হলো— ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু কোরবানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ নম্বর ধারায় ধর্মীয়, ওষুধ বা গবেষণার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পশু কোরবানির ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের আছে কি না। আগামী ২৭ ও ২৮ মে ঈদ উদযাপিত হওয়ার কথা থাকায় এবং হাতে সময় কম থাকায় আদালতকে এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া খোলা জায়গায় পশু কোরবানি করা যাবে না— এমন একটি শর্ত আদেশে যোগ করার বিষয়টিও ভেবে দেখতে রাজ্য সরকারকে বলেছে আদালত।
এর আগে গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার একটি আদেশ জারি করেছিল, যেখানে ১৯৫০ সালের আইন ও ২০১৮ সালের হাইকোর্টের একটি রায়ের সূত্র উল্লেখ করা হয়। এই দুটি নির্দেশনাই স্পষ্ট করে যে, নির্দিষ্ট ‘কোরবানির উপযুক্ত’ সনদ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো গরু ও মহিষ কোরবানি করা যাবে না। আদালতের এই আইনের সাংবিধানিকতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন যে, এই আইনটি মূলত কলকাতা ও অন্যান্য পৌরসভার জন্য তৈরি হয়েছিল, পুরো রাজ্যের জন্য নয়। তবে আদালত এই যুক্তিতে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি।
এদিকে কলকাতা পৌরসংস্থার আইনজীবী নীলোৎপল চ্যাটার্জি আদালতকে নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ আধুনিক জবাইখানা রয়েছে এবং কোরবানির উপযুক্ততার সনদ দেওয়ার জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তাও নিয়োজিত আছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সনদ দেওয়ার সঠিক ব্যবস্থা বজায় আছে কি না তা দেখার মূল দায়িত্ব রাজ্যের। পাশাপাশি নিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি বা ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে বলেও আদালত আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন