ঢাকা নিউজ

কিশোরীদের স্কিনকেয়ার আসক্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ



কিশোরীদের স্কিনকেয়ার আসক্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কিনকেয়ার বিষয়ক কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিশোরী ও শিশুদের মধ্যে ‘কসমেটিকোরেক্সিয়া’ নামের এক নতুন প্রবণতা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামা টিভির সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখুঁত ও দাগহীন ত্বকের আশায় অল্প বয়সি মেয়েরা অতিরিক্ত স্কিনকেয়ার পণ্যের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের ত্বক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট ও ‘ফ্ললেস স্কিন’-এর ধারণা খুব অল্প বয়সীদের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় তারা প্রতিদিন একাধিক ক্রিম, সিরাম ও টোনার ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্কদের দীর্ঘ স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করছে।

স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ‘পাই’ পরিচালিত ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী ১ হাজার ৫০০ শিশুর ওপর এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক শিশু সপ্তাহে একাধিক স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করে এবং অনেকেই নিজেদের ত্বকের তথাকথিত ‘ত্রুটি’ দূর করার জন্য এসব পণ্য ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। ইতালির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিওভান্নি দামিয়ানি বলেন, কসমেটিকোরেক্সিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌন্দর্যবিষয়ক কনটেন্ট অতিরিক্ত দেখা। আক্রান্ত শিশুরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কিনকেয়ার ভিডিও দেখে এবং অনেকেই এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে মেকআপ বা স্কিনকেয়ার পণ্য ছাড়া বাইরে যেতে বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বস্তি বোধ করে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শিশুদের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই কোমল ও সংবেদনশীল হওয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের পণ্য তাদের ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ব্রিটিশ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জেন আইরের মতে, রেটিনলের মতো সক্রিয় উপাদান বলিরেখা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হলেও তা শিশুদের ত্বকের উপযোগী নয় এবং এর অতিরিক্ত ব্যবহারে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, সংবেদনশীলতা ও একজিমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া শিশুদের মধ্যে ক্রিম ও সিরামের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ‘কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস’ বা ত্বকের অ্যালার্জিজনিত সমস্যার ঘটনাও দিন দিন বাড়ছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিখুঁত ত্বক পাওয়ার এই চাপ শুধু শারীরিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবাস্তব সৌন্দর্যের মানদণ্ডের সঙ্গে নিয়মিত পরিচিতি অল্প বয়স থেকেই শিশুদের মনে উদ্বেগ, হতাশা এবং নিজের চেহারা নিয়ে তীব্র অসন্তুষ্টি তৈরি করতে পারে বলে তাঁরা সতর্ক করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


কিশোরীদের স্কিনকেয়ার আসক্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কিনকেয়ার বিষয়ক কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিশোরী ও শিশুদের মধ্যে ‘কসমেটিকোরেক্সিয়া’ নামের এক নতুন প্রবণতা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামা টিভির সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখুঁত ও দাগহীন ত্বকের আশায় অল্প বয়সি মেয়েরা অতিরিক্ত স্কিনকেয়ার পণ্যের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের ত্বক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট ও ‘ফ্ললেস স্কিন’-এর ধারণা খুব অল্প বয়সীদের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় তারা প্রতিদিন একাধিক ক্রিম, সিরাম ও টোনার ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্কদের দীর্ঘ স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করছে।

স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ‘পাই’ পরিচালিত ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী ১ হাজার ৫০০ শিশুর ওপর এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক শিশু সপ্তাহে একাধিক স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করে এবং অনেকেই নিজেদের ত্বকের তথাকথিত ‘ত্রুটি’ দূর করার জন্য এসব পণ্য ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। ইতালির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিওভান্নি দামিয়ানি বলেন, কসমেটিকোরেক্সিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌন্দর্যবিষয়ক কনটেন্ট অতিরিক্ত দেখা। আক্রান্ত শিশুরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কিনকেয়ার ভিডিও দেখে এবং অনেকেই এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে মেকআপ বা স্কিনকেয়ার পণ্য ছাড়া বাইরে যেতে বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বস্তি বোধ করে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শিশুদের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই কোমল ও সংবেদনশীল হওয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের পণ্য তাদের ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ব্রিটিশ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জেন আইরের মতে, রেটিনলের মতো সক্রিয় উপাদান বলিরেখা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হলেও তা শিশুদের ত্বকের উপযোগী নয় এবং এর অতিরিক্ত ব্যবহারে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, সংবেদনশীলতা ও একজিমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া শিশুদের মধ্যে ক্রিম ও সিরামের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ‘কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস’ বা ত্বকের অ্যালার্জিজনিত সমস্যার ঘটনাও দিন দিন বাড়ছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিখুঁত ত্বক পাওয়ার এই চাপ শুধু শারীরিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবাস্তব সৌন্দর্যের মানদণ্ডের সঙ্গে নিয়মিত পরিচিতি অল্প বয়স থেকেই শিশুদের মনে উদ্বেগ, হতাশা এবং নিজের চেহারা নিয়ে তীব্র অসন্তুষ্টি তৈরি করতে পারে বলে তাঁরা সতর্ক করেছেন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ