ঢাকা নিউজ

শিশুদের ইউটিআই ঝুঁকি বাড়ায় ভুল টয়লেট অভ্যাস



শিশুদের ইউটিআই ঝুঁকি বাড়ায় ভুল টয়লেট অভ্যাস
ছবি : সংগৃহীত

শিশুদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়াজনিত মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআই (ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন) খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, যা বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে ওঠার সময় বেশি দেখা দেয়। ভারতের হায়দরাবাদের যশোদা হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ ইউরোলজিস্ট ডা. এম. গোপীচন্দ জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক গঠনগত সমস্যার কারণে ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়লেও শিশুদের দৈনন্দিন টয়লেট ব্যবহারের ভুল অভ্যাসও এ সংক্রমণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। এনডিটিভি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন বেগ, হঠাৎ তীব্র চাপ অনুভব, স্পষ্ট কারণ ছাড়া জ্বর, তলপেটে অস্বস্তি, পিঠ বা কোমরে ব্যথা, দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব, বমি, নতুন করে বিছানা ভেজানো এবং খিটখিটে মেজাজ বা খাওয়ায় অনীহা শিশুদের ইউটিআইয়ের সাধারণ লক্ষণ।

অনেক শিশু খেলাধুলা, মোবাইল বা পড়াশোনায় ব্যস্ত থেকে কিংবা স্কুলের অপরিচ্ছন্ন টয়লেট এড়াতে দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখে। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তারের বেশি সুযোগ পায় এবং মূত্রথলি অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে পুরোপুরি প্রস্রাব বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দিনে অন্তত প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর শিশুদের প্রস্রাব করা উচিত। অনেক শিশু তাড়াহুড়ো করে টয়লেট ব্যবহার করায় মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয় না এবং অবশিষ্ট প্রস্রাব ব্যাকটেরিয়ার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। এই ঝুঁকি কমাতে প্রথমে স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব করার ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড পর আবার চেষ্টা করার ‘ডাবল ভয়েডিং’ অভ্যাস করা জরুরি।

টয়লেটে বসার ভুল ভঙ্গিও শিশুদের ইউটিআইয়ের অন্যতম কারণ। শিশুদের পা ঝুলে থাকলে তারা পেলভিক ফ্লোরের পেশিগুলো শিথিল করতে পারে না; তাই সঠিক ভঙ্গির জন্য পা মেঝে বা ছোট স্টুলে ভর দিয়ে এবং হাঁটু সামান্য ফাঁক করে বসাতে হবে। এছাড়া বিশেষ করে মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে টয়লেট ব্যবহারের পর ভুলভাবে পরিষ্কার করা বড় ঝুঁকি তৈরি করে। মলদ্বার ও মূত্রনালির দূরত্ব কম হওয়ায় মল থেকে ব্যাকটেরিয়া যেন মূত্রনালিতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সবসময় সামনে থেকে পেছনের দিকে মোছার নিয়ম শেখাতে হবে।

শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্যও মূত্রনালির স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, কারণ মল জমে থাকলে মূত্রথলির ওপর চাপ পড়ে এবং তা স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব বের হতে বাধা দেয়। এই সমস্যা দূর করতে এবং মূত্রনালি থেকে ব্যাকটেরিয়া বের করে দিতে শিশুদের পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি টয়লেট ব্যবহারের পর হাত ধোয়া, যৌনাঙ্গ পরিষ্কার রাখা, ভেজা বা নোংরা অন্তর্বাস দ্রুত বদলানো এবং অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত সাবান বা বাবল বাথ এড়িয়ে চলার মতো পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গঠন করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, প্রস্রাবে ব্যথা, কারণহীন জ্বর বা বারবার ইউটিআই হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনো অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


শিশুদের ইউটিআই ঝুঁকি বাড়ায় ভুল টয়লেট অভ্যাস

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

শিশুদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়াজনিত মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআই (ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন) খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, যা বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে ওঠার সময় বেশি দেখা দেয়। ভারতের হায়দরাবাদের যশোদা হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ ইউরোলজিস্ট ডা. এম. গোপীচন্দ জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক গঠনগত সমস্যার কারণে ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়লেও শিশুদের দৈনন্দিন টয়লেট ব্যবহারের ভুল অভ্যাসও এ সংক্রমণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। এনডিটিভি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন বেগ, হঠাৎ তীব্র চাপ অনুভব, স্পষ্ট কারণ ছাড়া জ্বর, তলপেটে অস্বস্তি, পিঠ বা কোমরে ব্যথা, দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব, বমি, নতুন করে বিছানা ভেজানো এবং খিটখিটে মেজাজ বা খাওয়ায় অনীহা শিশুদের ইউটিআইয়ের সাধারণ লক্ষণ।

অনেক শিশু খেলাধুলা, মোবাইল বা পড়াশোনায় ব্যস্ত থেকে কিংবা স্কুলের অপরিচ্ছন্ন টয়লেট এড়াতে দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখে। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তারের বেশি সুযোগ পায় এবং মূত্রথলি অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে পুরোপুরি প্রস্রাব বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দিনে অন্তত প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর শিশুদের প্রস্রাব করা উচিত। অনেক শিশু তাড়াহুড়ো করে টয়লেট ব্যবহার করায় মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয় না এবং অবশিষ্ট প্রস্রাব ব্যাকটেরিয়ার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। এই ঝুঁকি কমাতে প্রথমে স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব করার ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড পর আবার চেষ্টা করার ‘ডাবল ভয়েডিং’ অভ্যাস করা জরুরি।

টয়লেটে বসার ভুল ভঙ্গিও শিশুদের ইউটিআইয়ের অন্যতম কারণ। শিশুদের পা ঝুলে থাকলে তারা পেলভিক ফ্লোরের পেশিগুলো শিথিল করতে পারে না; তাই সঠিক ভঙ্গির জন্য পা মেঝে বা ছোট স্টুলে ভর দিয়ে এবং হাঁটু সামান্য ফাঁক করে বসাতে হবে। এছাড়া বিশেষ করে মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে টয়লেট ব্যবহারের পর ভুলভাবে পরিষ্কার করা বড় ঝুঁকি তৈরি করে। মলদ্বার ও মূত্রনালির দূরত্ব কম হওয়ায় মল থেকে ব্যাকটেরিয়া যেন মূত্রনালিতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সবসময় সামনে থেকে পেছনের দিকে মোছার নিয়ম শেখাতে হবে।

শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্যও মূত্রনালির স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, কারণ মল জমে থাকলে মূত্রথলির ওপর চাপ পড়ে এবং তা স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব বের হতে বাধা দেয়। এই সমস্যা দূর করতে এবং মূত্রনালি থেকে ব্যাকটেরিয়া বের করে দিতে শিশুদের পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি টয়লেট ব্যবহারের পর হাত ধোয়া, যৌনাঙ্গ পরিষ্কার রাখা, ভেজা বা নোংরা অন্তর্বাস দ্রুত বদলানো এবং অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত সাবান বা বাবল বাথ এড়িয়ে চলার মতো পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গঠন করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, প্রস্রাবে ব্যথা, কারণহীন জ্বর বা বারবার ইউটিআই হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনো অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ