দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আরাগচি জানিয়েছেন, ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষিতে এটি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল রাখার কথা জানিয়েছেন।
প্রণালি খোলার বিষয়টিকে স্থায়ী ও কার্যকর করার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। প্যারিসে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই পদক্ষেপকে সঠিক দিকে অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ মাইন অপসারণ ও গোয়েন্দা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, তবে এর জন্য আইনি ভিত্তির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
ঘোষণাটি এলেও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে ইরানি গণমাধ্যমে। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র অ-সামরিক জাহাজগুলো আইআরজিসি-র অনুমতি নিয়ে চলাচল করতে পারবে। এছাড়া ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান এখনও স্পষ্ট না হওয়ায় এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল নীরব থাকায় বিষয়টি নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজন্ডার স্টাবও বিষয়টির দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি এবং তেল বাজারে এই ঘোষণার প্রভাব পড়েছে তাৎক্ষণিকভাবে। হাপাগ-লয়েড ও মেয়ার্স্কের মতো বড় কোম্পানিগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে আপাতত প্রণালি ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এই ঘোষণাটি নিরাপদ নৌ-চলাচলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা যাচাই করছে। তবে যুদ্ধের সমাপ্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আরাগচি জানিয়েছেন, ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষিতে এটি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল রাখার কথা জানিয়েছেন।
প্রণালি খোলার বিষয়টিকে স্থায়ী ও কার্যকর করার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। প্যারিসে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই পদক্ষেপকে সঠিক দিকে অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ মাইন অপসারণ ও গোয়েন্দা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, তবে এর জন্য আইনি ভিত্তির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
ঘোষণাটি এলেও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে ইরানি গণমাধ্যমে। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র অ-সামরিক জাহাজগুলো আইআরজিসি-র অনুমতি নিয়ে চলাচল করতে পারবে। এছাড়া ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান এখনও স্পষ্ট না হওয়ায় এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল নীরব থাকায় বিষয়টি নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজন্ডার স্টাবও বিষয়টির দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি এবং তেল বাজারে এই ঘোষণার প্রভাব পড়েছে তাৎক্ষণিকভাবে। হাপাগ-লয়েড ও মেয়ার্স্কের মতো বড় কোম্পানিগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে আপাতত প্রণালি ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এই ঘোষণাটি নিরাপদ নৌ-চলাচলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা যাচাই করছে। তবে যুদ্ধের সমাপ্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন