ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে জব্দকৃত ইরানি জাহাজ 'তুসকা' থেকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাসায়নিক সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি ঘিরে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মার্কিন রিপাবলিকান নেত্রী নিকি হ্যালি দাবি করেছেন, জব্দ করা ওই জাহাজে থাকা সরঞ্জামগুলো চীন থেকে ইরানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই ঘটনাটি ইরানকে টিকিয়ে রাখার নেপথ্যে চীনের সক্রিয় ভূমিকার বাস্তবতাকে আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী জাহাজটিকে থামার সংকেত দিলেও তা অমান্য করা হয়। পরবর্তীতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুএন্স থেকে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে গোলাবর্ষণ করে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয় এবং মার্কিন মেরিন সেনারা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাহাজটিতে এমন কিছু দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম থাকতে পারে যা শিল্প ও সামরিক উভয় খাতেই ব্যবহৃত হয়।
এই ঘটনাকে 'সশস্ত্র জলদস্যুতা' হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান ও বেইজিং। ইরান দাবি করেছে, জাহাজে ক্রু মেম্বারদের পরিবার থাকায় তারা সরাসরি সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে এই ঘটনার প্রতিবাদে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ না সরানো পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের সমঝোতা বা আলোচনায় বসবে না।
২০১৯ সাল থেকেই সংশ্লিষ্ট শিপিং লাইনের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও এই নতুন ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের লাফিয়ে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আটককৃত জাহাজটি দ্রুত না ছাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে জব্দকৃত ইরানি জাহাজ 'তুসকা' থেকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাসায়নিক সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি ঘিরে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মার্কিন রিপাবলিকান নেত্রী নিকি হ্যালি দাবি করেছেন, জব্দ করা ওই জাহাজে থাকা সরঞ্জামগুলো চীন থেকে ইরানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই ঘটনাটি ইরানকে টিকিয়ে রাখার নেপথ্যে চীনের সক্রিয় ভূমিকার বাস্তবতাকে আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী জাহাজটিকে থামার সংকেত দিলেও তা অমান্য করা হয়। পরবর্তীতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুএন্স থেকে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে গোলাবর্ষণ করে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয় এবং মার্কিন মেরিন সেনারা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাহাজটিতে এমন কিছু দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম থাকতে পারে যা শিল্প ও সামরিক উভয় খাতেই ব্যবহৃত হয়।
এই ঘটনাকে 'সশস্ত্র জলদস্যুতা' হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান ও বেইজিং। ইরান দাবি করেছে, জাহাজে ক্রু মেম্বারদের পরিবার থাকায় তারা সরাসরি সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে এই ঘটনার প্রতিবাদে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ না সরানো পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের সমঝোতা বা আলোচনায় বসবে না।
২০১৯ সাল থেকেই সংশ্লিষ্ট শিপিং লাইনের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও এই নতুন ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের লাফিয়ে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আটককৃত জাহাজটি দ্রুত না ছাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন