আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দায় নিয়ে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ও সাক্ষীর মধ্যে তীব্র বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে সাক্ষ্য প্রদানকারী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরীকে জেরার সময় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন দাবি করেন যে, গুম ও নির্যাতনের পেছনে তাঁর মক্কেল দায়ী নন, বরং সাক্ষী নিজের কর্মকাণ্ডের কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী আইনজীবীর এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সরাসরি শেখ হাসিনাকেই তাঁর গুম ও ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য দায়ী করেন। ২০২০ সালে গুমের শিকার হওয়া এই সাক্ষী জানান, তিনি ট্রাইব্যুনালে কোনো অসত্য তথ্য দেননি এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নয়, বরং বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষাপটেই এই সাক্ষ্য দিচ্ছেন। গত ১৯ এপ্রিল তিনি এই মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন এবং আজ তাঁর দ্বিতীয় দিনের জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার শুনানির সময় আজ ট্রাইব্যুনালে গ্রেপ্তারকৃত ১০ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাকে হাজির করা হয়, যারা বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। এদের মধ্যে র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জন আসামির মধ্যে বেশ কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত।
আজকের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমসহ আরও বেশ কয়েকজন সদস্য। মামলার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় পলাতক আসামিদের বিষয়ে এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ট্রাইব্যুনালের এই বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরার মাধ্যমে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দায় নিয়ে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ও সাক্ষীর মধ্যে তীব্র বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে সাক্ষ্য প্রদানকারী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরীকে জেরার সময় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন দাবি করেন যে, গুম ও নির্যাতনের পেছনে তাঁর মক্কেল দায়ী নন, বরং সাক্ষী নিজের কর্মকাণ্ডের কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী আইনজীবীর এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সরাসরি শেখ হাসিনাকেই তাঁর গুম ও ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য দায়ী করেন। ২০২০ সালে গুমের শিকার হওয়া এই সাক্ষী জানান, তিনি ট্রাইব্যুনালে কোনো অসত্য তথ্য দেননি এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নয়, বরং বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষাপটেই এই সাক্ষ্য দিচ্ছেন। গত ১৯ এপ্রিল তিনি এই মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন এবং আজ তাঁর দ্বিতীয় দিনের জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার শুনানির সময় আজ ট্রাইব্যুনালে গ্রেপ্তারকৃত ১০ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাকে হাজির করা হয়, যারা বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। এদের মধ্যে র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জন আসামির মধ্যে বেশ কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত।
আজকের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমসহ আরও বেশ কয়েকজন সদস্য। মামলার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় পলাতক আসামিদের বিষয়ে এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ট্রাইব্যুনালের এই বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরার মাধ্যমে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন