৪০ বছর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের সদস্য ১৯০টি দেশের গোপন ভোটাভুটিতে ৯৯ ভোট পেয়ে তিনি এই পদে জয়লাভ করেছেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট। এবারের সভাপতিত্বের দায়িত্ব পড়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠীর ভাগে এবং খলিলুর রহমান এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই এক বছরের দায়িত্ব পালন করবেন, যখন জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির প্রধান কাজ হলো সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনাকে সমন্বয় করা। তিনি অত্যন্ত নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে সাধারণ পরিষদের কার্যপ্রণালি সামনে এগিয়ে নেন, যাতে কোনো গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাত তৈরি না হয়। এই অধিবেশনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কাজটিও করেন সভাপতি। তবে তিনি জাতিসংঘের প্রধান নির্বাহী নন, সংস্থাটির প্রশাসনিক প্রধান হলেন মহাসচিব।
সাধারণ পরিষদের অন্যতম শক্তিশালী ক্ষমতা হলো জাতিসংঘের পিস কিপিং (শান্তিরক্ষা) বাজেট ও সংস্থার মূল বাজেট পরিচালনা করা। নিরাপত্তা পরিষদে শান্তিরক্ষা মিশনের ম্যান্ডেট হওয়ার পর এর বাজেটিংয়ের কাজ হয় সাধারণ পরিষদে, যা মূলত কনসেনশাস বা সর্বসম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং এই ম্যান্ডেটরি বিষয়টি মানতে জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র বাধ্য থাকে। প্রতি দুই বছর পর পর জাতিসংঘের বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
বাজেট সংক্রান্ত দায়িত্বের বাইরে সাধারণ পরিষদের অন্যান্য কাজগুলো মূলত সুপারিশমূলক হয়ে থাকে। তবে একটি বিশেষ ক্ষমতা অনুযায়ী, যখন নিরাপত্তা পরিষদ কোনো বৈশ্বিক সংকটে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তখন সদস্য রাষ্ট্ররা সেই প্রস্তাবটিকে সাধারণ পরিষদে নিয়ে আসে। খলিলুর রহমান ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট, জাতিসংঘের সংস্কার প্রচেষ্টা এবং বড় ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছরে এই বিশ্ব সংস্থাটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বে এলেন।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
৪০ বছর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের সদস্য ১৯০টি দেশের গোপন ভোটাভুটিতে ৯৯ ভোট পেয়ে তিনি এই পদে জয়লাভ করেছেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট। এবারের সভাপতিত্বের দায়িত্ব পড়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠীর ভাগে এবং খলিলুর রহমান এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই এক বছরের দায়িত্ব পালন করবেন, যখন জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির প্রধান কাজ হলো সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনাকে সমন্বয় করা। তিনি অত্যন্ত নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে সাধারণ পরিষদের কার্যপ্রণালি সামনে এগিয়ে নেন, যাতে কোনো গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাত তৈরি না হয়। এই অধিবেশনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কাজটিও করেন সভাপতি। তবে তিনি জাতিসংঘের প্রধান নির্বাহী নন, সংস্থাটির প্রশাসনিক প্রধান হলেন মহাসচিব।
সাধারণ পরিষদের অন্যতম শক্তিশালী ক্ষমতা হলো জাতিসংঘের পিস কিপিং (শান্তিরক্ষা) বাজেট ও সংস্থার মূল বাজেট পরিচালনা করা। নিরাপত্তা পরিষদে শান্তিরক্ষা মিশনের ম্যান্ডেট হওয়ার পর এর বাজেটিংয়ের কাজ হয় সাধারণ পরিষদে, যা মূলত কনসেনশাস বা সর্বসম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং এই ম্যান্ডেটরি বিষয়টি মানতে জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র বাধ্য থাকে। প্রতি দুই বছর পর পর জাতিসংঘের বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
বাজেট সংক্রান্ত দায়িত্বের বাইরে সাধারণ পরিষদের অন্যান্য কাজগুলো মূলত সুপারিশমূলক হয়ে থাকে। তবে একটি বিশেষ ক্ষমতা অনুযায়ী, যখন নিরাপত্তা পরিষদ কোনো বৈশ্বিক সংকটে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তখন সদস্য রাষ্ট্ররা সেই প্রস্তাবটিকে সাধারণ পরিষদে নিয়ে আসে। খলিলুর রহমান ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট, জাতিসংঘের সংস্কার প্রচেষ্টা এবং বড় ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছরে এই বিশ্ব সংস্থাটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বে এলেন।

আপনার মতামত লিখুন