ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হলেও বর্তমানে তা প্রায় বন্ধ থাকায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১০৫.৮০ ডলারে পৌঁছেছে। একই ধারাবাহিকতায় মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬.৫০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান আরও কঠোর; তিনি জানিয়েছেন, যতক্ষণ ইরান একটি কার্যকর শান্তি প্রস্তাব না দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের ফলে সংকট সমাধানের পথ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ছায়াযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব মজুত থেকে তেলের রপ্তানি বাড়িয়ে রেকর্ড তৈরি করেছে, কিন্তু বৈশ্বিক উচ্চ চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সরবরাহ লাইনের এই বিঘ্ন দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, যা বিশ্বজুড়ে পরিবহণ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হলেও বর্তমানে তা প্রায় বন্ধ থাকায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১০৫.৮০ ডলারে পৌঁছেছে। একই ধারাবাহিকতায় মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬.৫০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান আরও কঠোর; তিনি জানিয়েছেন, যতক্ষণ ইরান একটি কার্যকর শান্তি প্রস্তাব না দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের ফলে সংকট সমাধানের পথ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ছায়াযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব মজুত থেকে তেলের রপ্তানি বাড়িয়ে রেকর্ড তৈরি করেছে, কিন্তু বৈশ্বিক উচ্চ চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সরবরাহ লাইনের এই বিঘ্ন দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, যা বিশ্বজুড়ে পরিবহণ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন