ঢাকা নিউজ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ‘শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ’ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ইসরাইলের



ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ‘শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ’ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ইসরাইলের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে অত্যন্ত কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল। রোববার (৭ জুন) রাতে ইরানের এই হামলার পর ইসরাইলি দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের এই পদক্ষেপের জবাব হবে অত্যন্ত ‘শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ’। অন্যদিকে, সম্ভাব্য ইসরাইলি পালটা হামলার আশঙ্কায় ইরান, ইরাক ও সিরিয়া সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ইরান অন্তত তিন দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় থাকায় সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। ইসরাইলি সূত্রগুলোর একটি জানায়, অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে এবং এই হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বিপরীতে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরাইলের হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ‘রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি’ লক্ষ্য করে এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরাইল যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, এই রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিই ছিল সেই ‘আগ্রাসনের প্রধান উৎস’। এ কারণেই ঘাঁটিটিকে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

নিরাপত্তা শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধ সম্ভাব্য ইসরাইলি পালটা হামলার আশঙ্কায় ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশসীমা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সাময়িকভাবে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে ইরাক ও সিরিয়াও। ধারণা করা হয়, ইসরাইল অতীতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে এই দুই দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করেছিল।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকলে আরও বৃহৎ পরিসরে পালটা আঘাত হানা হবে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ রাখা, কিন্তু লেবাননে সামরিক অভিযান এবং হরমুজ প্রণালি ও ওমান সাগরে ইরানের জাহাজে বারবার হামলার মাধ্যমে তারা সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, রোববারের হামলা ছিল একটি সতর্কবার্তা এবং আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে এর জবাব হবে আরও ব্যাপক ও কঠোর। এই পালটাপালটি অবস্থান ও চরম উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বৈশ্বিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ‘শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ’ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ইসরাইলের

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে অত্যন্ত কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল। রোববার (৭ জুন) রাতে ইরানের এই হামলার পর ইসরাইলি দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের এই পদক্ষেপের জবাব হবে অত্যন্ত ‘শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ’। অন্যদিকে, সম্ভাব্য ইসরাইলি পালটা হামলার আশঙ্কায় ইরান, ইরাক ও সিরিয়া সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ইরান অন্তত তিন দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় থাকায় সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। ইসরাইলি সূত্রগুলোর একটি জানায়, অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে এবং এই হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বিপরীতে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরাইলের হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ‘রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি’ লক্ষ্য করে এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরাইল যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, এই রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিই ছিল সেই ‘আগ্রাসনের প্রধান উৎস’। এ কারণেই ঘাঁটিটিকে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

নিরাপত্তা শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধ সম্ভাব্য ইসরাইলি পালটা হামলার আশঙ্কায় ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশসীমা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সাময়িকভাবে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে ইরাক ও সিরিয়াও। ধারণা করা হয়, ইসরাইল অতীতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে এই দুই দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করেছিল।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকলে আরও বৃহৎ পরিসরে পালটা আঘাত হানা হবে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ রাখা, কিন্তু লেবাননে সামরিক অভিযান এবং হরমুজ প্রণালি ও ওমান সাগরে ইরানের জাহাজে বারবার হামলার মাধ্যমে তারা সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, রোববারের হামলা ছিল একটি সতর্কবার্তা এবং আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে এর জবাব হবে আরও ব্যাপক ও কঠোর। এই পালটাপালটি অবস্থান ও চরম উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বৈশ্বিক বিশ্লেষকরা।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ