প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে থাকা তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ইউ-২৩৫ এর পরিমাণ বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়াকেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বলা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য এই প্রক্রিয়াটি অপরিহার্য। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে এই সমৃদ্ধকরণ মাত্রা এবং এর মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা তৈরির সময়সীমা।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কী? প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে প্রধানত ইউ-২৩৮ (৯৯.৩%) এবং ইউ-২৩৫ (০.৭%) থাকে। পারমাণবিক শক্তি বা অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান হলো ইউ-২৩৫। সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় 'সেন্ট্রিফিউজ' যন্ত্রের সাহায্যে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড গ্যাসকে অত্যন্ত দ্রুত ঘুরিয়ে ভারী ইউ-২৩৮ থেকে হালকা ইউ-২৩৫ আলাদা করা হয়। এই ইউ-২৩৫ এর শতাংশ যত বাড়ানো হয়, ইউরেনিয়াম তত বেশি সমৃদ্ধ হয়। সাধারণত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৩-৫% সমৃদ্ধকরণ যথেষ্ট হলেও পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৯০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।
ইরান কত দ্রুত বোমা বানাতে পারবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সবচেয়ে কঠিন ধাপ হলো ২০% মাত্রা অর্জন করা। ইরান ইতোমধ্যে ৬০% মাত্রায় প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। এমআইটি-র অধ্যাপক টেড পস্তলের মতে, প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম থেকে ৬০% পর্যন্ত পৌঁছাতে কয়েক বছর লাগলেও, বর্তমান সক্ষমতা ব্যবহার করে ৬০% থেকে অস্ত্র তৈরির উপযোগী ৯০% মাত্রায় পৌঁছাতে ইরানের মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। ইরানের কাছে থাকা উন্নত আইআর-৬ সেন্ট্রিফিউজগুলো খুব অল্প জায়গাতেই উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধকরণ সম্পন্ন করতে সক্ষম।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও মার্কিন অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধের শর্তারোপ করেছেন। যদিও ইরান দাবি করে আসছে তাদের কর্মসূচি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বেসামরিক কাজের জন্য, তবে ৬০% মাত্রার মজুদ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার মাধ্যমে একটি উন্নত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
পারমাণবিক অস্ত্রের বৈশ্বিক চিত্র ও সমৃদ্ধকরণের স্তর বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যার সিংহভাগ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের স্তরগুলো নিচে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
৩-৫%: বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
৫-২০%: আধুনিক বা বিশেষায়িত চুল্লি।
২০-৮৫%: বৈজ্ঞানিক গবেষণা।
৯০% বা তদূর্ধ্ব: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে থাকা তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ইউ-২৩৫ এর পরিমাণ বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়াকেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বলা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য এই প্রক্রিয়াটি অপরিহার্য। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে এই সমৃদ্ধকরণ মাত্রা এবং এর মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা তৈরির সময়সীমা।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কী? প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে প্রধানত ইউ-২৩৮ (৯৯.৩%) এবং ইউ-২৩৫ (০.৭%) থাকে। পারমাণবিক শক্তি বা অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান হলো ইউ-২৩৫। সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় 'সেন্ট্রিফিউজ' যন্ত্রের সাহায্যে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড গ্যাসকে অত্যন্ত দ্রুত ঘুরিয়ে ভারী ইউ-২৩৮ থেকে হালকা ইউ-২৩৫ আলাদা করা হয়। এই ইউ-২৩৫ এর শতাংশ যত বাড়ানো হয়, ইউরেনিয়াম তত বেশি সমৃদ্ধ হয়। সাধারণত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৩-৫% সমৃদ্ধকরণ যথেষ্ট হলেও পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৯০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।
ইরান কত দ্রুত বোমা বানাতে পারবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সবচেয়ে কঠিন ধাপ হলো ২০% মাত্রা অর্জন করা। ইরান ইতোমধ্যে ৬০% মাত্রায় প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। এমআইটি-র অধ্যাপক টেড পস্তলের মতে, প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম থেকে ৬০% পর্যন্ত পৌঁছাতে কয়েক বছর লাগলেও, বর্তমান সক্ষমতা ব্যবহার করে ৬০% থেকে অস্ত্র তৈরির উপযোগী ৯০% মাত্রায় পৌঁছাতে ইরানের মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। ইরানের কাছে থাকা উন্নত আইআর-৬ সেন্ট্রিফিউজগুলো খুব অল্প জায়গাতেই উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধকরণ সম্পন্ন করতে সক্ষম।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও মার্কিন অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধের শর্তারোপ করেছেন। যদিও ইরান দাবি করে আসছে তাদের কর্মসূচি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বেসামরিক কাজের জন্য, তবে ৬০% মাত্রার মজুদ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার মাধ্যমে একটি উন্নত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
পারমাণবিক অস্ত্রের বৈশ্বিক চিত্র ও সমৃদ্ধকরণের স্তর বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যার সিংহভাগ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের স্তরগুলো নিচে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
৩-৫%: বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
৫-২০%: আধুনিক বা বিশেষায়িত চুল্লি।
২০-৮৫%: বৈজ্ঞানিক গবেষণা।
৯০% বা তদূর্ধ্ব: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি।

আপনার মতামত লিখুন