মাদক পাচার মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে ভেনেজুয়েলার কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আইনি লড়াইয়ের খরচ মেটানোর পথ প্রশস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ টালবাহানার পর ওয়াশিংটন তাদের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় বিশেষ পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে, যাতে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার মাদুরোর আইনজীবীর পাওনা পরিশোধ করতে পারে। নিউইয়র্কের একটি আদালতের নথিতে গত শুক্রবার এই তথ্য সামনে আসে, যা না হলে আইনজীবীর ফি পরিশোধের অনিশ্চয়তায় পুরো মামলাটিই খারিজ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসসহ বন্দি হন ৬৩ বছর বয়সি মাদুরো। গ্রেফতারের পর তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয় এবং বর্তমানে তারা নার্কো-টেরোরিজম বা মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে ব্রুকলিনের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। যদিও আদালতের শুনানিতে মাদুরো ও ফ্লোরেস নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মাদুরোর প্রধান কৌঁসুলি ব্যারি পোল্যাক গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা সরকার তার ফি পরিশোধ করতে পারছে না, যা মার্কিন সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনীর লঙ্ঘন। আইনজীবীরা আদালতকে জানান, মাদুরো বা ফ্লোরেস ব্যক্তিগতভাবে এই বিপুল আইনি খরচ বহন করতে সক্ষম নন, তবে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার এই ব্যয়ভার গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে। ম্যানহাটনের জেলা জজ আলভিন হেলারস্টাইন গত ২৬ মার্চের শুনানিতে ইঙ্গিত দেন যে, একজন আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব।
সরকারি কৌঁসুলি কাইল উইরশবা নিষেধাজ্ঞাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির স্বার্থে নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার হিসেবে দাবি করলেও বিচারক তা নাকচ করে দেন। বিচারক হেলারস্টাইন উল্লেখ করেন, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুতির পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মাদুরো দম্পতি এখন মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন এবং তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নন, তাই তাদের আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারই এখন মুখ্য।
এই আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, যখন দুর্নীতি ও গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিরোধ এবং ২০২০ সালে মাদক পাচারের অভিযোগে পুরস্কার ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এই উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নেয়। অন্যদিকে মাদুরো শুরু থেকেই এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও তেলসম্পদ দখলের মার্কিন অজুহাত হিসেবে দাবি করে আসছেন। আদালতের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তিনি এখন তার পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে লড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
মাদক পাচার মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে ভেনেজুয়েলার কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আইনি লড়াইয়ের খরচ মেটানোর পথ প্রশস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ টালবাহানার পর ওয়াশিংটন তাদের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় বিশেষ পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে, যাতে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার মাদুরোর আইনজীবীর পাওনা পরিশোধ করতে পারে। নিউইয়র্কের একটি আদালতের নথিতে গত শুক্রবার এই তথ্য সামনে আসে, যা না হলে আইনজীবীর ফি পরিশোধের অনিশ্চয়তায় পুরো মামলাটিই খারিজ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসসহ বন্দি হন ৬৩ বছর বয়সি মাদুরো। গ্রেফতারের পর তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয় এবং বর্তমানে তারা নার্কো-টেরোরিজম বা মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে ব্রুকলিনের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। যদিও আদালতের শুনানিতে মাদুরো ও ফ্লোরেস নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মাদুরোর প্রধান কৌঁসুলি ব্যারি পোল্যাক গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা সরকার তার ফি পরিশোধ করতে পারছে না, যা মার্কিন সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনীর লঙ্ঘন। আইনজীবীরা আদালতকে জানান, মাদুরো বা ফ্লোরেস ব্যক্তিগতভাবে এই বিপুল আইনি খরচ বহন করতে সক্ষম নন, তবে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার এই ব্যয়ভার গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে। ম্যানহাটনের জেলা জজ আলভিন হেলারস্টাইন গত ২৬ মার্চের শুনানিতে ইঙ্গিত দেন যে, একজন আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব।
সরকারি কৌঁসুলি কাইল উইরশবা নিষেধাজ্ঞাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির স্বার্থে নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার হিসেবে দাবি করলেও বিচারক তা নাকচ করে দেন। বিচারক হেলারস্টাইন উল্লেখ করেন, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুতির পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মাদুরো দম্পতি এখন মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন এবং তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নন, তাই তাদের আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারই এখন মুখ্য।
এই আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, যখন দুর্নীতি ও গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিরোধ এবং ২০২০ সালে মাদক পাচারের অভিযোগে পুরস্কার ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এই উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নেয়। অন্যদিকে মাদুরো শুরু থেকেই এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও তেলসম্পদ দখলের মার্কিন অজুহাত হিসেবে দাবি করে আসছেন। আদালতের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তিনি এখন তার পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে লড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন