১৯৮০ সালে সাদ্দাম হোসেনের ইরান আক্রমণ তেহরান দখলের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হলেও আট বছর স্থায়ী সেই যুদ্ধই আজকের 'ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান'-কে একটি দুর্ভেদ্য সামরিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চার দশক আগের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বর্তমান ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো ও সমরকৌশলের জন্য এক ধরনের ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে কাজ করেছে। তৎকালীন নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির সময় এই যুদ্ধকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত দমন এবং কট্টরপন্থী আলেমদের শাসনব্যবস্থাকে নিষ্কণ্টক করা হয়েছিল।
বর্তমান ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের প্রায় সবাই সেই যুদ্ধের ময়দান থেকে উঠে আসা। কুদস ফোর্সের বর্তমান প্রধান ইসমাইল কানি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মূলত যুদ্ধের ময়দানেই তাদের নেতৃত্বের ভিত্তি গড়েছিলেন। এই দীর্ঘ যুদ্ধ আইআরজিসি কমান্ডারদের মধ্যে এক ধরনের ‘ইস্পাতকঠিন ভ্রাতৃত্ব’ তৈরি করেছে, যা বর্তমানে দেশটির রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রশাসনে অত্যন্ত সুসংগঠিত কাঠামো নিশ্চিত করেছে।
সামরিক দিক থেকে ইরান আজ যে ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে ঈর্ষণীয় উন্নতি করেছে, তার মূলে রয়েছে যুদ্ধের সময়কার সেই একাকীত্বের শিক্ষা। তৎকালীন সময়ে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলো সাদ্দামকে সমর্থন দেওয়ায় ইরান উপলব্ধি করেছিল যে তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। সেই সময়েই শুরু হওয়া ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা নির্মাণের কৌশল আজকের দিনেও আমেরিকা বা ইসরাইলি আক্রমণ থেকে ইরানের মিসাইল ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখছে।
তবে বাহ্যিক শক্তিবৃদ্ধি ঘটলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট এখনো অমীমাংসিত। দমন-পীড়ন ও কঠোর রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক সংকটের ফলে জনগণের একটি বড় অংশ বর্তমান ব্যবস্থার ওপর অসন্তুষ্ট। ফলে অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরান একটি শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্রে পরিণত হলেও, বর্তমানের জনরোষ সামাল দিতে সেই পুরনো তত্ত্ব কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
১৯৮০ সালে সাদ্দাম হোসেনের ইরান আক্রমণ তেহরান দখলের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হলেও আট বছর স্থায়ী সেই যুদ্ধই আজকের 'ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান'-কে একটি দুর্ভেদ্য সামরিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চার দশক আগের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বর্তমান ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো ও সমরকৌশলের জন্য এক ধরনের ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে কাজ করেছে। তৎকালীন নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির সময় এই যুদ্ধকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত দমন এবং কট্টরপন্থী আলেমদের শাসনব্যবস্থাকে নিষ্কণ্টক করা হয়েছিল।
বর্তমান ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের প্রায় সবাই সেই যুদ্ধের ময়দান থেকে উঠে আসা। কুদস ফোর্সের বর্তমান প্রধান ইসমাইল কানি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মূলত যুদ্ধের ময়দানেই তাদের নেতৃত্বের ভিত্তি গড়েছিলেন। এই দীর্ঘ যুদ্ধ আইআরজিসি কমান্ডারদের মধ্যে এক ধরনের ‘ইস্পাতকঠিন ভ্রাতৃত্ব’ তৈরি করেছে, যা বর্তমানে দেশটির রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রশাসনে অত্যন্ত সুসংগঠিত কাঠামো নিশ্চিত করেছে।
সামরিক দিক থেকে ইরান আজ যে ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে ঈর্ষণীয় উন্নতি করেছে, তার মূলে রয়েছে যুদ্ধের সময়কার সেই একাকীত্বের শিক্ষা। তৎকালীন সময়ে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলো সাদ্দামকে সমর্থন দেওয়ায় ইরান উপলব্ধি করেছিল যে তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। সেই সময়েই শুরু হওয়া ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা নির্মাণের কৌশল আজকের দিনেও আমেরিকা বা ইসরাইলি আক্রমণ থেকে ইরানের মিসাইল ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখছে।
তবে বাহ্যিক শক্তিবৃদ্ধি ঘটলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট এখনো অমীমাংসিত। দমন-পীড়ন ও কঠোর রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক সংকটের ফলে জনগণের একটি বড় অংশ বর্তমান ব্যবস্থার ওপর অসন্তুষ্ট। ফলে অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরান একটি শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্রে পরিণত হলেও, বর্তমানের জনরোষ সামাল দিতে সেই পুরনো তত্ত্ব কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।

আপনার মতামত লিখুন