নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলেও আদালতের রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় আইনজীবীরা। সোমবার সকালে রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্ট চত্বর এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচিতে নিহতদের পরিবার, এলাকাবাসী এবং আইনজীবীরা অংশ নিয়ে বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির দাবি জানান।
আইনজীবীদের মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি অবিলম্বে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় কার্যকরের আহ্বান জানান। মামলার প্রধান আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন সেদিনের নৃশংস ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালী এবং র্যাবের তৎকালীন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।
২০১৪ সালের এই ঘটনায় র্যাব-১১-এর কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের শরীরে ৩৬টি করে ইট বেঁধে শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর মোহনায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় আদালত আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন এবং সাবেক র্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখলেও গত ৯ বছর ধরে মামলাটি আপিল বিভাগে ঝুলে আছে।
নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি মানববন্ধনে আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, এক যুগ কেটে গেলেও তারা এখনো ন্যায়বিচার পাননি। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে সাতটি পরিবার বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছে। বর্তমান সরকারের কাছে তাদের একমাত্র চাওয়া—জীবদ্দশায় যেন তারা খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হতে দেখে যেতে পারেন।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলেও আদালতের রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় আইনজীবীরা। সোমবার সকালে রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্ট চত্বর এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচিতে নিহতদের পরিবার, এলাকাবাসী এবং আইনজীবীরা অংশ নিয়ে বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির দাবি জানান।
আইনজীবীদের মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি অবিলম্বে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় কার্যকরের আহ্বান জানান। মামলার প্রধান আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন সেদিনের নৃশংস ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালী এবং র্যাবের তৎকালীন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।
২০১৪ সালের এই ঘটনায় র্যাব-১১-এর কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের শরীরে ৩৬টি করে ইট বেঁধে শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর মোহনায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় আদালত আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন এবং সাবেক র্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখলেও গত ৯ বছর ধরে মামলাটি আপিল বিভাগে ঝুলে আছে।
নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি মানববন্ধনে আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, এক যুগ কেটে গেলেও তারা এখনো ন্যায়বিচার পাননি। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে সাতটি পরিবার বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছে। বর্তমান সরকারের কাছে তাদের একমাত্র চাওয়া—জীবদ্দশায় যেন তারা খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হতে দেখে যেতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন