কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পর এক আসামি গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় এসেছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। সম্প্রতি তাকে নিয়ে চলা সমালোচনা ও হুমকির মুখে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান ও ময়নাতদন্তের কারিগরি দিকগুলো স্পষ্ট করেছেন।
ডা. সাহা জানান, ২০১৬ সালে তনুর প্রথম ময়নাতদন্তের সময় তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন না এবং ওই রিপোর্টের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ বোর্ডের প্রধান হিসেবে তিনি দ্বিতীয় দফার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কবর থেকে লাশ তোলার সময় তা যথেষ্ট পচে যাওয়ায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি, যা ফরেনসিক বিজ্ঞানে একটি স্বাভাবিক ঘটনা।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল, যা দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হুবহু উল্লেখ করা হয়। তবে জনমনে ছড়িয়ে পড়া এই ধারণা ভুল যে রিপোর্টে তনুর চরিত্র নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছিল; বরং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল।
দীর্ঘ এক দশকে হাজার হাজার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা এই চিকিৎসক অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট কখনোই বিচারের অন্তরায় নয়, বরং তদন্তকারী সংস্থা প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করলে এই প্রতিবেদন বিচারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র এবং দেশ ছেড়ে পালানোর খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তনু হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি তিনিও কামনা করেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পর এক আসামি গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় এসেছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। সম্প্রতি তাকে নিয়ে চলা সমালোচনা ও হুমকির মুখে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান ও ময়নাতদন্তের কারিগরি দিকগুলো স্পষ্ট করেছেন।
ডা. সাহা জানান, ২০১৬ সালে তনুর প্রথম ময়নাতদন্তের সময় তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন না এবং ওই রিপোর্টের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ বোর্ডের প্রধান হিসেবে তিনি দ্বিতীয় দফার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কবর থেকে লাশ তোলার সময় তা যথেষ্ট পচে যাওয়ায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি, যা ফরেনসিক বিজ্ঞানে একটি স্বাভাবিক ঘটনা।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল, যা দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হুবহু উল্লেখ করা হয়। তবে জনমনে ছড়িয়ে পড়া এই ধারণা ভুল যে রিপোর্টে তনুর চরিত্র নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছিল; বরং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল।
দীর্ঘ এক দশকে হাজার হাজার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা এই চিকিৎসক অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট কখনোই বিচারের অন্তরায় নয়, বরং তদন্তকারী সংস্থা প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করলে এই প্রতিবেদন বিচারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র এবং দেশ ছেড়ে পালানোর খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তনু হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি তিনিও কামনা করেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন