মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছেন ১০৫টির বেশি ট্যাংকারে থাকা প্রায় দুই হাজার ৪০০ নাবিক। আন্তর্জাতিক ট্যাংকার মালিকদের সংগঠন ইন্টারট্যাংকো জানিয়েছে, আটকে পড়া এই নাবিকরা বর্তমানে চরম খাদ্য সংকট, মানসিক উদ্বেগ এবং মৃত্যুভয়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। দীর্ঘ সময় জাহাজে অবরুদ্ধ থাকায় তাদের মধ্যে ঘরে ফেরার অনিশ্চয়তা প্রবল হয়ে উঠেছে।
আটকে পড়া এক নাবিক তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন এক ভাসমান কারাগারে বন্দি হয়ে আছেন। ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত আক্রমণের ভয়ে তারা তটস্থ, কারণ যে কোনো সময় জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (আইটিএফ) জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে নাবিকদের কাছ থেকে প্রায় এক হাজার ৯০০টি জরুরি অনুরোধ পেয়েছে, যার মধ্যে খাবার ও পানির সংকটের পাশাপাশি বড় অংশই ছিল দেশে ফেরার আকুতি।
ইরান এই অচলাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণেই জলপথটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ থাকা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে।
এদিকে সংকট নিরসনে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে প্রাথমিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই প্রস্তাবে পারমাণবিক আলোচনার বিষয়টি পরবর্তী ধাপের জন্য তুলে রেখে বর্তমান মানবিক ও বাণিজ্যিক সংকট সমাধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও আইটিএফ এখন পর্যন্ত ৪৫০ জন নাবিককে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছে, তবে বিশাল একটি অংশ এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে সাগরে ভাসছেন।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছেন ১০৫টির বেশি ট্যাংকারে থাকা প্রায় দুই হাজার ৪০০ নাবিক। আন্তর্জাতিক ট্যাংকার মালিকদের সংগঠন ইন্টারট্যাংকো জানিয়েছে, আটকে পড়া এই নাবিকরা বর্তমানে চরম খাদ্য সংকট, মানসিক উদ্বেগ এবং মৃত্যুভয়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। দীর্ঘ সময় জাহাজে অবরুদ্ধ থাকায় তাদের মধ্যে ঘরে ফেরার অনিশ্চয়তা প্রবল হয়ে উঠেছে।
আটকে পড়া এক নাবিক তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন এক ভাসমান কারাগারে বন্দি হয়ে আছেন। ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত আক্রমণের ভয়ে তারা তটস্থ, কারণ যে কোনো সময় জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (আইটিএফ) জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে নাবিকদের কাছ থেকে প্রায় এক হাজার ৯০০টি জরুরি অনুরোধ পেয়েছে, যার মধ্যে খাবার ও পানির সংকটের পাশাপাশি বড় অংশই ছিল দেশে ফেরার আকুতি।
ইরান এই অচলাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণেই জলপথটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ থাকা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে।
এদিকে সংকট নিরসনে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে প্রাথমিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই প্রস্তাবে পারমাণবিক আলোচনার বিষয়টি পরবর্তী ধাপের জন্য তুলে রেখে বর্তমান মানবিক ও বাণিজ্যিক সংকট সমাধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও আইটিএফ এখন পর্যন্ত ৪৫০ জন নাবিককে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছে, তবে বিশাল একটি অংশ এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে সাগরে ভাসছেন।

আপনার মতামত লিখুন