ঢাকা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপন: ট্রাম্পের সামনে অর্থের কঠিন সমীকরণ



মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপন: ট্রাম্পের সামনে অর্থের কঠিন সমীকরণ
ছবি : সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে ফেরার লড়াই থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ইরানের প্রতি নিজের কট্টর অবস্থান বজায় রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ এবং একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানকে দেওয়া আর্থিক সুবিধার প্রশ্নটি। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের কাছে যেকোনো চুক্তির মূল চাবিকাঠি হলো অর্থ, যা দিতে ট্রাম্পের চরম অনীহা রয়েছে।

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির সময় ইরানকে দেওয়া নগদ অর্থের কড়া সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। এখন নিজের শাসনামলে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে তার জন্য এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। ট্রাম্প গত এক দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়েছেন, এখন শান্তি ফেরানোর স্বার্থে সেই অবস্থান থেকে সরে আসা তার নিজের ইমেজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক বিরোধ মেটানোর বিনিময়ে ইরান মূলত চারটি উপায়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে: যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ, প্রণালী ব্যবহারের টোল, ফ্রিজ করা সম্পদ ফেরত এবং সরাসরি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। বিশেষ করে ‘টোল’ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে আরব দেশগুলো—যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন—তীব্র বিরোধিতা করছে, কারণ তারা ইরানকে এই আন্তর্জাতিক জলপথের নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখতে নারাজ।

অন্যদিকে, ইসরাইল যেকোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোর বিরোধী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের ওপর থেকে বিধিনিষেধ কমানোর প্রশ্নে ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরাইলের বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হতে পারে। ইসরাইল তার সর্বশক্তি দিয়ে এই সমঝোতা ঠেকানোর চেষ্টা করবে।

বর্তমানে বিপর্যস্ত ইরানি অর্থনীতি প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে রয়েছে। তেহরান এমন একটি চূড়ান্ত সমঝোতা চাইছে যা তাদের বিশ্ববাজারে স্বাভাবিক বাণিজ্যের সুযোগ দেবে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প তার কট্টরপন্থি ভাবমূর্তি বজায় রেখে কীভাবে অর্থের এই জটিল সমীকরণ মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপন: ট্রাম্পের সামনে অর্থের কঠিন সমীকরণ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হোয়াইট হাউসে ফেরার লড়াই থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ইরানের প্রতি নিজের কট্টর অবস্থান বজায় রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ এবং একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানকে দেওয়া আর্থিক সুবিধার প্রশ্নটি। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের কাছে যেকোনো চুক্তির মূল চাবিকাঠি হলো অর্থ, যা দিতে ট্রাম্পের চরম অনীহা রয়েছে।

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির সময় ইরানকে দেওয়া নগদ অর্থের কড়া সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। এখন নিজের শাসনামলে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে তার জন্য এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। ট্রাম্প গত এক দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়েছেন, এখন শান্তি ফেরানোর স্বার্থে সেই অবস্থান থেকে সরে আসা তার নিজের ইমেজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক বিরোধ মেটানোর বিনিময়ে ইরান মূলত চারটি উপায়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে: যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ, প্রণালী ব্যবহারের টোল, ফ্রিজ করা সম্পদ ফেরত এবং সরাসরি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। বিশেষ করে ‘টোল’ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে আরব দেশগুলো—যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন—তীব্র বিরোধিতা করছে, কারণ তারা ইরানকে এই আন্তর্জাতিক জলপথের নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখতে নারাজ।

অন্যদিকে, ইসরাইল যেকোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোর বিরোধী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের ওপর থেকে বিধিনিষেধ কমানোর প্রশ্নে ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরাইলের বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হতে পারে। ইসরাইল তার সর্বশক্তি দিয়ে এই সমঝোতা ঠেকানোর চেষ্টা করবে।

বর্তমানে বিপর্যস্ত ইরানি অর্থনীতি প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে রয়েছে। তেহরান এমন একটি চূড়ান্ত সমঝোতা চাইছে যা তাদের বিশ্ববাজারে স্বাভাবিক বাণিজ্যের সুযোগ দেবে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প তার কট্টরপন্থি ভাবমূর্তি বজায় রেখে কীভাবে অর্থের এই জটিল সমীকরণ মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পারেন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ