নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রধান নদী উব্দাখালীসহ মহাদেও, গনেশ্বরী ও মঙ্গেলশ্বী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় হাওড়ের বোরো ধান রক্ষায় কৃষকরা তড়িঘড়ি করে ফসল কাটতে নেমেছেন। ইতোমধ্যে মেদী ও তেলেঙ্গাসহ বেশ কিছু বিলের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উব্দাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ১.১৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি আরও বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, হাওড়ের প্রায় ৩০ শতাংশ বোরো ফসল ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে এবং আরও অন্তত ২০ শতাংশ জমি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক স্থানে আধুনিক কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না এবং তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা কাঁচাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে মোট ২১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ধান বর্তমানে নিমজ্জিত। ৬৫টি হারভেস্টারের মধ্যে মাত্র ৩০-৩৫টি সচল থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম জানিয়েছেন, ফসল রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ধান কাটার প্রচারণা ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় চালানো হচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও পার্শ্ববর্তী সিলেটে ভারী বৃষ্টির ফলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বাঁধ রক্ষায় পিআইসি কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক রাখা হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রধান নদী উব্দাখালীসহ মহাদেও, গনেশ্বরী ও মঙ্গেলশ্বী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় হাওড়ের বোরো ধান রক্ষায় কৃষকরা তড়িঘড়ি করে ফসল কাটতে নেমেছেন। ইতোমধ্যে মেদী ও তেলেঙ্গাসহ বেশ কিছু বিলের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উব্দাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ১.১৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি আরও বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, হাওড়ের প্রায় ৩০ শতাংশ বোরো ফসল ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে এবং আরও অন্তত ২০ শতাংশ জমি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক স্থানে আধুনিক কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না এবং তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা কাঁচাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে মোট ২১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ধান বর্তমানে নিমজ্জিত। ৬৫টি হারভেস্টারের মধ্যে মাত্র ৩০-৩৫টি সচল থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম জানিয়েছেন, ফসল রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ধান কাটার প্রচারণা ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় চালানো হচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও পার্শ্ববর্তী সিলেটে ভারী বৃষ্টির ফলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বাঁধ রক্ষায় পিআইসি কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক রাখা হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন