ঢাকা নিউজ

আগ্রাসনের প্রভাবে ইরানে ওষুধের দাম বেড়েছে ১০০০ শতাংশ পর্যন্ত



আগ্রাসনের প্রভাবে ইরানে ওষুধের দাম বেড়েছে ১০০০ শতাংশ পর্যন্ত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইরানের স্বাস্থ্যখাতে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশটিতে ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু কিছু জীবনদায়ী ওষুধের দাম ১০ গুণ বা ১,০০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স’ (এমএসএফ)-এর ইরান মিশনের প্রধান গ্রিগর সিমোনিয়ান জানান, ইরান অভ্যন্তরীণভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষম হলেও যুদ্ধের ব্যাপকতা সেই সরবরাহ চেইনকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে রোগীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘কাউন্সিলিং’ নিতে আসা মানুষের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণসমূহ:

  • কাঁচামাল সংকট: ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের তীব্র ঘাটতি।

  • স্থাপনায় আঘাত: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বড় বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।

  • অবরোধ: ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ফলে আমদানিকৃত ওষুধের চালান আটকে থাকা।

  • নিষেধাজ্ঞা: দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ ওষুধের দাম ইতিমধ্যেই পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ওষুধের দাম দ্বিগুণ হলেও বিরল এবং জটিল রোগের ওষুধের ক্ষেত্রে দামের বৃদ্ধি আকাশচুম্বী। এই সংকটে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, যা দেশটিতে নতুন এক মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি করছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


আগ্রাসনের প্রভাবে ইরানে ওষুধের দাম বেড়েছে ১০০০ শতাংশ পর্যন্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইরানের স্বাস্থ্যখাতে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশটিতে ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু কিছু জীবনদায়ী ওষুধের দাম ১০ গুণ বা ১,০০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স’ (এমএসএফ)-এর ইরান মিশনের প্রধান গ্রিগর সিমোনিয়ান জানান, ইরান অভ্যন্তরীণভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষম হলেও যুদ্ধের ব্যাপকতা সেই সরবরাহ চেইনকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে রোগীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘কাউন্সিলিং’ নিতে আসা মানুষের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণসমূহ:

  • কাঁচামাল সংকট: ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের তীব্র ঘাটতি।

  • স্থাপনায় আঘাত: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বড় বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।

  • অবরোধ: ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ফলে আমদানিকৃত ওষুধের চালান আটকে থাকা।

  • নিষেধাজ্ঞা: দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ ওষুধের দাম ইতিমধ্যেই পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ওষুধের দাম দ্বিগুণ হলেও বিরল এবং জটিল রোগের ওষুধের ক্ষেত্রে দামের বৃদ্ধি আকাশচুম্বী। এই সংকটে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, যা দেশটিতে নতুন এক মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি করছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ