রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা ও করের টাকার যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সরকারের কাছে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ-র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আইসিএবি ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় তিনি সরকারের ব্যয় পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং করের টাকা খরচের হিসাব তদারকিতে একটি বিশেষ 'সেল' গঠনের প্রস্তাব দেন।
জবাবদিহিতার দাবি: শওকত আজিজ রাসেল বলেন, "যেভাবে ব্যবসায়ীদের ধরপাকড় করে কর আদায় করা হয়, সেই করের টাকা সরকার কীভাবে খরচ করছে তার জবাবদিহি থাকা দরকার। রাস্তা ছাড়া ব্রিজ বানিয়ে যদি বলা হয় টাকা নেই, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ নেই, নীতি সংস্কার হচ্ছে না এবং শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আগামী বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্প খাতে কত শতাংশ বরাদ্দ থাকছে, তা পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি।
ডিজিটাল ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ পরিবেশ: অনুষ্ঠানে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ এনবিআরের তিন বিভাগের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, কাস্টমসে অটোমেশন না হলে এবং দুর্নীতি না কমলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে না। অন্যদিকে, আইসিএবি সভাপতি এন কে এ মবিন জানান, আগামী বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা হতে পারে। রাজস্ব আহরণ টেকসই করতে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
উপদেষ্টার আশ্বাসের বাণী: প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর স্বীকার করেন যে, নাগরিকরা সেবা না পেলে কর দিতে আগ্রহী হয় না। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ কোন খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে, তার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ থাকবে।
আলোচনায় আরও অংশ নেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। দক্ষ আর্থিক কাঠামো গড়তে কাগজভিত্তিক হিসাব পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আলোচকরা।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা ও করের টাকার যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সরকারের কাছে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ-র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আইসিএবি ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় তিনি সরকারের ব্যয় পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং করের টাকা খরচের হিসাব তদারকিতে একটি বিশেষ 'সেল' গঠনের প্রস্তাব দেন।
জবাবদিহিতার দাবি: শওকত আজিজ রাসেল বলেন, "যেভাবে ব্যবসায়ীদের ধরপাকড় করে কর আদায় করা হয়, সেই করের টাকা সরকার কীভাবে খরচ করছে তার জবাবদিহি থাকা দরকার। রাস্তা ছাড়া ব্রিজ বানিয়ে যদি বলা হয় টাকা নেই, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ নেই, নীতি সংস্কার হচ্ছে না এবং শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আগামী বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্প খাতে কত শতাংশ বরাদ্দ থাকছে, তা পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি।
ডিজিটাল ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ পরিবেশ: অনুষ্ঠানে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ এনবিআরের তিন বিভাগের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, কাস্টমসে অটোমেশন না হলে এবং দুর্নীতি না কমলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে না। অন্যদিকে, আইসিএবি সভাপতি এন কে এ মবিন জানান, আগামী বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা হতে পারে। রাজস্ব আহরণ টেকসই করতে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
উপদেষ্টার আশ্বাসের বাণী: প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর স্বীকার করেন যে, নাগরিকরা সেবা না পেলে কর দিতে আগ্রহী হয় না। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ কোন খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে, তার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ থাকবে।
আলোচনায় আরও অংশ নেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। দক্ষ আর্থিক কাঠামো গড়তে কাগজভিত্তিক হিসাব পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আলোচকরা।

আপনার মতামত লিখুন