দৈনন্দিন জীবনে জমি কেনাবেচা ও মালিকানা সংক্রান্ত সঠিক ধারণা না থাকায় অনেকেই প্রতারণা, জালিয়াতি বা আইনি জটিলতার শিকার হন। এই ধরনের ভোগান্তি এড়াতে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের আগে ভূমি সংশ্লিষ্ট মৌলিক পরিভাষাগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং পর্চার মতো বিষয়গুলো সঠিকভাবে জানা থাকলে দলিলপত্র যাচাই করা সহজ হয়।
ভূমি জরিপের সময় জমির মালিকানার যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে, যা মৌজাভিত্তিক তৈরি করা হয়। অন্যদিকে, ম্যাপে জমির সীমানা শনাক্ত করার জন্য প্রতিটি খণ্ডকে দেওয়া আলাদা নম্বরটি হলো দাগ নম্বর। এছাড়া জরিপকালে খসড়া খতিয়ানের অনুলিপিকে মাঠ পর্চা এবং চূড়ান্ত অনুলিপিকে পর্চা বলা হয়। জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে মালিকানা পরিবর্তনের পর নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় নামজারি।
জমির বিস্তারিত পরিচয় যেমন মৌজা, খতিয়ান, দাগ ও পরিমাণকে তফশিল বলা হয় এবং এর বার্ষিক করকে খাজনা ও কর আদায়ের রশিদকে দাখিলা বলা হয়। নদীভাঙনে বিলীন হওয়া জমিকে সিকস্তি এবং নদী থেকে জেগে ওঠা নতুন চরকে পয়স্তি বলে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়াও নাল জমি, খাস জমি, দেবোত্তর সম্পত্তি ও ওয়াকফের মতো পরিভাষাগুলো জমির ধরন ও মালিকানা বুঝতে সাহায্য করে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের নিয়মকে ফারায়েজ এবং উত্তরাধিকারীদের ওয়ারিশ বলা হয়। জমিজমার এই বিশেষ শব্দগুলো এবং আইনি নথিপত্র বা দলিলের সঠিক অর্থ জানা থাকলে সাধারণ মানুষ ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেনে নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। মূলত সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই ভূমি অফিসের দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
দৈনন্দিন জীবনে জমি কেনাবেচা ও মালিকানা সংক্রান্ত সঠিক ধারণা না থাকায় অনেকেই প্রতারণা, জালিয়াতি বা আইনি জটিলতার শিকার হন। এই ধরনের ভোগান্তি এড়াতে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের আগে ভূমি সংশ্লিষ্ট মৌলিক পরিভাষাগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং পর্চার মতো বিষয়গুলো সঠিকভাবে জানা থাকলে দলিলপত্র যাচাই করা সহজ হয়।
ভূমি জরিপের সময় জমির মালিকানার যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে, যা মৌজাভিত্তিক তৈরি করা হয়। অন্যদিকে, ম্যাপে জমির সীমানা শনাক্ত করার জন্য প্রতিটি খণ্ডকে দেওয়া আলাদা নম্বরটি হলো দাগ নম্বর। এছাড়া জরিপকালে খসড়া খতিয়ানের অনুলিপিকে মাঠ পর্চা এবং চূড়ান্ত অনুলিপিকে পর্চা বলা হয়। জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে মালিকানা পরিবর্তনের পর নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় নামজারি।
জমির বিস্তারিত পরিচয় যেমন মৌজা, খতিয়ান, দাগ ও পরিমাণকে তফশিল বলা হয় এবং এর বার্ষিক করকে খাজনা ও কর আদায়ের রশিদকে দাখিলা বলা হয়। নদীভাঙনে বিলীন হওয়া জমিকে সিকস্তি এবং নদী থেকে জেগে ওঠা নতুন চরকে পয়স্তি বলে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়াও নাল জমি, খাস জমি, দেবোত্তর সম্পত্তি ও ওয়াকফের মতো পরিভাষাগুলো জমির ধরন ও মালিকানা বুঝতে সাহায্য করে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের নিয়মকে ফারায়েজ এবং উত্তরাধিকারীদের ওয়ারিশ বলা হয়। জমিজমার এই বিশেষ শব্দগুলো এবং আইনি নথিপত্র বা দলিলের সঠিক অর্থ জানা থাকলে সাধারণ মানুষ ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেনে নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। মূলত সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই ভূমি অফিসের দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন