জাপানের এক সময়ের স্থিতিশীল হেয়ার সেলুন শিল্প বর্তমানে নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে রেকর্ডসংখ্যক ২৩৫টি সেলুন দেউলিয়া হওয়ার আবেদন জানিয়েছে, যা ২০২৪ সালের ২১৫টির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ব্যবসায়িক এই ধসের কারণে সেলুনগুলোর গড় আয়ুষ্কাল ১৪.১ বছর থেকে কমে বর্তমানে ১৩ বছরে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি কোভিড-১৯ মহামারিকালের চেয়েও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মহামারির সময় সরকারি ভর্তুকি ও সুদমুক্ত ঋণের কারণে ২০২১ সালে দেউলিয়া হওয়ার সংখ্যা মাত্র ৬৮-তে নেমে এসেছিল। তবে বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎ বিলসহ প্রসাধনীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সেলুন মালিকদের পক্ষে সেবা মূল্য কমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আর্থিক সংকটের পাশাপাশি এই খাতে তীব্র কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। দক্ষ স্টাইলিস্টরা এখন বড় চেইন শপ বা নামিদামি ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছেন। ছোট সেলুনগুলো সাধারণত নতুন শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দিলেও তারা নিজেদের ব্যবসা শুরুর আশায় দ্রুত কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন, যা ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আরও বিপাকে ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাজারের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সেলুনের উপস্থিতি। সস্তা বিকল্প খোঁজার প্রবণতা এবং ক্রমবর্ধমান খরচ মেটাতে না পেরে প্রতিযোগিতার এই বাজারে অনেক সাধারণ উদ্যোক্তাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারছেন না।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
জাপানের এক সময়ের স্থিতিশীল হেয়ার সেলুন শিল্প বর্তমানে নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে রেকর্ডসংখ্যক ২৩৫টি সেলুন দেউলিয়া হওয়ার আবেদন জানিয়েছে, যা ২০২৪ সালের ২১৫টির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ব্যবসায়িক এই ধসের কারণে সেলুনগুলোর গড় আয়ুষ্কাল ১৪.১ বছর থেকে কমে বর্তমানে ১৩ বছরে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি কোভিড-১৯ মহামারিকালের চেয়েও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মহামারির সময় সরকারি ভর্তুকি ও সুদমুক্ত ঋণের কারণে ২০২১ সালে দেউলিয়া হওয়ার সংখ্যা মাত্র ৬৮-তে নেমে এসেছিল। তবে বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎ বিলসহ প্রসাধনীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সেলুন মালিকদের পক্ষে সেবা মূল্য কমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আর্থিক সংকটের পাশাপাশি এই খাতে তীব্র কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। দক্ষ স্টাইলিস্টরা এখন বড় চেইন শপ বা নামিদামি ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছেন। ছোট সেলুনগুলো সাধারণত নতুন শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দিলেও তারা নিজেদের ব্যবসা শুরুর আশায় দ্রুত কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন, যা ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আরও বিপাকে ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাজারের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সেলুনের উপস্থিতি। সস্তা বিকল্প খোঁজার প্রবণতা এবং ক্রমবর্ধমান খরচ মেটাতে না পেরে প্রতিযোগিতার এই বাজারে অনেক সাধারণ উদ্যোক্তাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারছেন না।

আপনার মতামত লিখুন