ঢাকা নিউজ

জান্নাতের নিশ্চয়তা পাওয়ার ৬টি বিশেষ গুণ



জান্নাতের নিশ্চয়তা পাওয়ার ৬টি বিশেষ গুণ
ছবি : সংগৃহীত

জান্নাত প্রত্যেক মুমিনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন ছয়টি মানবিক ও চারিত্রিক গুণের কথা বলেছেন, যা অর্জন করতে পারলে তিনি স্বয়ং সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। আজকের ব্যস্ত ও ফেতনার যুগে ইবাদতের পাশাপাশি এই গুণগুলো অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা আমাকে ছয়টি বিষয়ের নিশ্চয়তা দাও, আমি তোমাদের জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।" (মুসনাদে আহমদ)


জান্নাত লাভের সেই ৬টি গুণ:

  • ১. সর্বদা সত্য কথা বলা: সত্যবাদিতা মুমিনের ভূষণ। এটি অন্তরকে আলোকিত করে এবং আল্লাহর নিকট প্রিয় বানায়। সম্পর্কের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য বজায় রাখা জান্নাতের পথ প্রশস্ত করে।

  • ২. ওয়াদা পূর্ণ করা: প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ঈমানের অঙ্গ। মানুষের আস্থা অর্জন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেওয়া কথা রাখা অপরিহার্য।

  • ৩. আমানত রক্ষা করা: কারো সম্পদ, গোপন কথা বা দায়িত্ব—সবই আমানত। অন্যের রাখা বিশ্বাস বা আমানতের অসম্মান না করা একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

  • ৪. লজ্জাস্থানের হেফাজত করা: চারিত্রিক পবিত্রতা ও লজ্জা ইসলামের সৌন্দর্য। বর্তমান সময়ের বিভিন্ন পাপাচার থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে চরিত্র রক্ষা করা বড় ইবাদত।

  • ৫. দৃষ্টি সংযত রাখা: চোখ হলো অন্তরের প্রবেশপথ। কুদৃষ্টি থেকে চোখকে বাঁচিয়ে রাখা অন্তরকে পবিত্র রাখে এবং ইমানি স্বাদ বৃদ্ধি করে।

  • ৬. কাউকে কষ্ট না দেওয়া: নিজের হাত বা মুখ (কথা) দিয়ে অন্য কোনো মানুষকে আঘাত না করা। প্রকৃত মুসলিম সেই, যার অনিষ্ট থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে।


পরিশেষ: জান্নাত কেবল তসবিহ পাঠ বা নির্জনে ইবাদতের নাম নয়; বরং সমাজ ও মানুষের সাথে লেনদেনে সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং উত্তম ব্যবহারের মধ্যেই লুকিয়ে আছে চিরস্থায়ী শান্তির চাবিকাঠি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই গুণগুলো নিজেদের জীবনে ধারণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


জান্নাতের নিশ্চয়তা পাওয়ার ৬টি বিশেষ গুণ

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

জান্নাত প্রত্যেক মুমিনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন ছয়টি মানবিক ও চারিত্রিক গুণের কথা বলেছেন, যা অর্জন করতে পারলে তিনি স্বয়ং সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। আজকের ব্যস্ত ও ফেতনার যুগে ইবাদতের পাশাপাশি এই গুণগুলো অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা আমাকে ছয়টি বিষয়ের নিশ্চয়তা দাও, আমি তোমাদের জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।" (মুসনাদে আহমদ)


জান্নাত লাভের সেই ৬টি গুণ:

  • ১. সর্বদা সত্য কথা বলা: সত্যবাদিতা মুমিনের ভূষণ। এটি অন্তরকে আলোকিত করে এবং আল্লাহর নিকট প্রিয় বানায়। সম্পর্কের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য বজায় রাখা জান্নাতের পথ প্রশস্ত করে।

  • ২. ওয়াদা পূর্ণ করা: প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ঈমানের অঙ্গ। মানুষের আস্থা অর্জন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেওয়া কথা রাখা অপরিহার্য।

  • ৩. আমানত রক্ষা করা: কারো সম্পদ, গোপন কথা বা দায়িত্ব—সবই আমানত। অন্যের রাখা বিশ্বাস বা আমানতের অসম্মান না করা একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

  • ৪. লজ্জাস্থানের হেফাজত করা: চারিত্রিক পবিত্রতা ও লজ্জা ইসলামের সৌন্দর্য। বর্তমান সময়ের বিভিন্ন পাপাচার থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে চরিত্র রক্ষা করা বড় ইবাদত।

  • ৫. দৃষ্টি সংযত রাখা: চোখ হলো অন্তরের প্রবেশপথ। কুদৃষ্টি থেকে চোখকে বাঁচিয়ে রাখা অন্তরকে পবিত্র রাখে এবং ইমানি স্বাদ বৃদ্ধি করে।

  • ৬. কাউকে কষ্ট না দেওয়া: নিজের হাত বা মুখ (কথা) দিয়ে অন্য কোনো মানুষকে আঘাত না করা। প্রকৃত মুসলিম সেই, যার অনিষ্ট থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে।


পরিশেষ: জান্নাত কেবল তসবিহ পাঠ বা নির্জনে ইবাদতের নাম নয়; বরং সমাজ ও মানুষের সাথে লেনদেনে সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং উত্তম ব্যবহারের মধ্যেই লুকিয়ে আছে চিরস্থায়ী শান্তির চাবিকাঠি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই গুণগুলো নিজেদের জীবনে ধারণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ