ঢাকা নিউজ

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, শেয়ার বাজারে ধস



বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, শেয়ার বাজারে ধস
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ার বিপরীতে আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারগুলোতে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। একদিনেই তেলের মূল্য ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৬৮ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ১০১.৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে তাদের শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার শর্ত দেওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার সতর্কবার্তায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। জীবনযাত্রার খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বৈশ্বিক বাজারের চিত্রে দেখা গেছে, ব্রিটেনে বন্ডের সুদের হার ১৯৯৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো রেকর্ড উচ্চতা থেকে নিচে নেমে গেছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে, এআই প্রযুক্তির মুনাফার ওপর নতুন কর আরোপের প্রস্তাবে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজার ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি সপ্তাহে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেখানে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন এলন মাস্ক ও টিম কুকের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এই বৈঠকে ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান ইস্যু এবং বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। ইরান থেকে তেল আমদানিতে চীনের বড় অংশীদারিত্ব থাকায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণই এখন এই সফরের সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, শেয়ার বাজারে ধস

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ার বিপরীতে আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারগুলোতে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। একদিনেই তেলের মূল্য ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৬৮ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ১০১.৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে তাদের শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার শর্ত দেওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার সতর্কবার্তায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। জীবনযাত্রার খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বৈশ্বিক বাজারের চিত্রে দেখা গেছে, ব্রিটেনে বন্ডের সুদের হার ১৯৯৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো রেকর্ড উচ্চতা থেকে নিচে নেমে গেছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে, এআই প্রযুক্তির মুনাফার ওপর নতুন কর আরোপের প্রস্তাবে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজার ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি সপ্তাহে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেখানে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন এলন মাস্ক ও টিম কুকের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এই বৈঠকে ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান ইস্যু এবং বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। ইরান থেকে তেল আমদানিতে চীনের বড় অংশীদারিত্ব থাকায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণই এখন এই সফরের সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ