পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর ভারতের রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমবর্ধমান আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে সোমবার (১৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার আগেই কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের মালিকানাধীন কোম্পানি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু নতুন তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসার পর তাকে পুনরায় তলব করা হয়। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, অতীতে অভিষেকের হাজিরাকে কেন্দ্র করে সিজিও কমপ্লেক্স এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও কড়াকড়ি দেখা গেলেও এবার তেমন কোনো বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। গত মাসে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গঠন করার পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলটি।
দলের ভেতরেও তৈরি হয়েছে একটি ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী, যারা নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সক্রিয় নেতৃত্বের পরিবর্তে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যেই বিধানসভায় সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্তে গত রোববার সিআইডির মুখোমুখি হয়ে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হন অভিষেক। তার পরদিনই তিনি ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন এবং আগামী মঙ্গলবারও একটি সাইবার অভিযোগের বিষয়ে তাকে পুনরায় তলব করেছে সিআইডি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে সিআইডির একটি দল অভিষেকের বাসভবনে নোটিশ দেওয়ার পর গভীর রাতে তার বাড়িতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তল্লাশি অভিযান চালায়। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি মামলায় অভিষেকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) সুমিত রায়কে খুঁজে বের করতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। মূলত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনয়ন দিয়ে স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। একাধিক বিধায়ক সই না করার দাবি তোলার পর বিদ্রোহী দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও শেষ পর্যন্ত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই, যা তৃণমূলের পরিষদীয় দলে বড় ধরনের ভাঙন স্পষ্ট করে তুলেছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর ভারতের রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমবর্ধমান আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে সোমবার (১৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার আগেই কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের মালিকানাধীন কোম্পানি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু নতুন তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসার পর তাকে পুনরায় তলব করা হয়। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, অতীতে অভিষেকের হাজিরাকে কেন্দ্র করে সিজিও কমপ্লেক্স এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও কড়াকড়ি দেখা গেলেও এবার তেমন কোনো বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। গত মাসে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গঠন করার পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলটি।
দলের ভেতরেও তৈরি হয়েছে একটি ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী, যারা নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সক্রিয় নেতৃত্বের পরিবর্তে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যেই বিধানসভায় সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্তে গত রোববার সিআইডির মুখোমুখি হয়ে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হন অভিষেক। তার পরদিনই তিনি ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন এবং আগামী মঙ্গলবারও একটি সাইবার অভিযোগের বিষয়ে তাকে পুনরায় তলব করেছে সিআইডি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে সিআইডির একটি দল অভিষেকের বাসভবনে নোটিশ দেওয়ার পর গভীর রাতে তার বাড়িতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তল্লাশি অভিযান চালায়। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি মামলায় অভিষেকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) সুমিত রায়কে খুঁজে বের করতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। মূলত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনয়ন দিয়ে স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। একাধিক বিধায়ক সই না করার দাবি তোলার পর বিদ্রোহী দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও শেষ পর্যন্ত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই, যা তৃণমূলের পরিষদীয় দলে বড় ধরনের ভাঙন স্পষ্ট করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন