পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠন করা সম্ভব হয়নি এবং দপ্তর বণ্টন নিয়ে দলীয় অন্দরের কোন্দল ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের কারণেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এবং আরও পাঁচজন বিজেপি বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও এখনও রাজ্যের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়ে গেছে।
বর্তমানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, পরিবহণ, সেচ ও জলপথসহ প্রায় ৪২টি দপ্তরের দায়িত্ব একাই সামলাতে হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীকে, যা দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারি কাজকর্মে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহল মনে করছে। ইতোমধ্যে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ; পৌর বিষয়ক এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর দেওয়া হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে; খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া; তফসিলি জাতি, আদিবাসী ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন ক্ষুদিরাম চূড় এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিশীথ প্রামাণিককে। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং স্বরাষ্ট্রের মতো মূল গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও সঙ্ঘের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং মন্ত্রীসভার জন্য তারও কিছু পছন্দের নাম রয়েছে, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীও নিজের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে মন্ত্রী করতে চাইছেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বর্তমান মন্ত্রীসভার অনেককেই পুরোপুরি নিজেদের ঘনিষ্ঠ মনে করছে না এবং শুভেন্দু অধিকারীকেও সঙ্ঘ নেতৃত্ব এখনও পুরোপুরি নিজেদের রাজনৈতিক পরিসরের মানুষ হিসেবে দেখছে না। ফলে সঙ্ঘ নেতৃত্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসাতে চাইছে এবং পূর্বাঞ্চলের সঙ্ঘ নেতৃত্ব এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে নিজেদের মতামত পৌঁছে দিয়েছে।
বিশেষ করে শিক্ষা দপ্তর নিয়ে মতভেদ সবচেয়ে বেশি, যেখানে সঙ্ঘের একাংশ হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী কোনও নেতাকে চাইছে এবং শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিকভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দিতে আগ্রহী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার গঠনের পর এত দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ফাঁকা থাকার নজির পশ্চিমবঙ্গে খুব কম থাকায় এই পরিস্থিতি বিজেপি সরকারের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা দিচ্ছে এবং দ্রুত দপ্তর বণ্টন না হলে উন্নয়নমূলক কাজ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত ব্যাহত হতে পারে। তবে বিজেপির এক বিধায়ক দাবি করেছেন আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে, যদিও এই টানাপোড়েন আগামী দিনে বিজেপির অন্দরের ক্ষমতার সমীকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠন করা সম্ভব হয়নি এবং দপ্তর বণ্টন নিয়ে দলীয় অন্দরের কোন্দল ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের কারণেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এবং আরও পাঁচজন বিজেপি বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও এখনও রাজ্যের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়ে গেছে।
বর্তমানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, পরিবহণ, সেচ ও জলপথসহ প্রায় ৪২টি দপ্তরের দায়িত্ব একাই সামলাতে হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীকে, যা দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারি কাজকর্মে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহল মনে করছে। ইতোমধ্যে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ; পৌর বিষয়ক এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর দেওয়া হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে; খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া; তফসিলি জাতি, আদিবাসী ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন ক্ষুদিরাম চূড় এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিশীথ প্রামাণিককে। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং স্বরাষ্ট্রের মতো মূল গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও সঙ্ঘের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং মন্ত্রীসভার জন্য তারও কিছু পছন্দের নাম রয়েছে, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীও নিজের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে মন্ত্রী করতে চাইছেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বর্তমান মন্ত্রীসভার অনেককেই পুরোপুরি নিজেদের ঘনিষ্ঠ মনে করছে না এবং শুভেন্দু অধিকারীকেও সঙ্ঘ নেতৃত্ব এখনও পুরোপুরি নিজেদের রাজনৈতিক পরিসরের মানুষ হিসেবে দেখছে না। ফলে সঙ্ঘ নেতৃত্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসাতে চাইছে এবং পূর্বাঞ্চলের সঙ্ঘ নেতৃত্ব এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে নিজেদের মতামত পৌঁছে দিয়েছে।
বিশেষ করে শিক্ষা দপ্তর নিয়ে মতভেদ সবচেয়ে বেশি, যেখানে সঙ্ঘের একাংশ হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী কোনও নেতাকে চাইছে এবং শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিকভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দিতে আগ্রহী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার গঠনের পর এত দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ফাঁকা থাকার নজির পশ্চিমবঙ্গে খুব কম থাকায় এই পরিস্থিতি বিজেপি সরকারের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা দিচ্ছে এবং দ্রুত দপ্তর বণ্টন না হলে উন্নয়নমূলক কাজ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত ব্যাহত হতে পারে। তবে বিজেপির এক বিধায়ক দাবি করেছেন আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে, যদিও এই টানাপোড়েন আগামী দিনে বিজেপির অন্দরের ক্ষমতার সমীকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন