চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়ায় যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনা রোধে ৯০০ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চললেও সম্প্রসারিত অংশের মাঝামাঝি স্থানে এখনও প্রায় ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) একটি বিশাল বিলবোর্ড দাঁড়িয়ে রয়েছে। খুঁটি ও বিলবোর্ড অপসারণের আগেই এভাবে তড়িঘড়ি নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সড়ক নিরাপত্তাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার এই অংশে মাঝখানে ৪ ফুট ডিভাইডার রেখে উভয় পাশে ২৪ ফুট করে মোট ৫২ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সম্প্রসারণ অংশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে, যার কয়েকটি ভবিষ্যৎ সড়কের ঠিক মাঝ বরাবর পড়ে যাচ্ছে। এতে নির্মাণকাজ যেমন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ভবিষ্যতে এখানে আরও বড় ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাঙ্গালিয়া অংশটি দীর্ঘদিন ধরেই মহাসড়কের ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে পরিচিত এবং গত এক বছরে এই এলাকায় ছোট-বড় প্রায় অর্ধশত দুর্ঘটনায় অন্তত ৭৪ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) লোহাগাড়া উপজেলা শাখার সদস্য সোহাগ মিয়া এবং পরিবহন প্রতিনিধি মিনহাজুর রহমান পারভেজ জানান, যেখানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে সেখানে রাস্তার মাঝখানে খুঁটি রেখে চার লেন করলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে, যা রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় চালকদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন হচ্ছে, যার মধ্যে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা পর্যন্ত ৩৫ কোটি টাকা এবং রাজঘাটা থেকে চুনতি মিঠার দোকান পর্যন্ত ৩৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এই বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, খুঁটি অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে চিঠি দেওয়া হলেও তারা বেশি টাকা দাবি করায় এখনও টাকা জমা দেওয়া হয়নি; তবে খুঁটি না সরিয়ে তাড়াহুড়ো করে কাজ করার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম রফিকুল ইসলাম খান স্পষ্ট জানিয়েছেন, সড়ক বিভাগ এখনও খুঁটি অপসারণের প্রয়োজনীয় টাকা জমা না দেওয়ায় খুঁটিগুলো সরানো সম্ভব হয়নি এবং টাকা জমা দিলেই কেবল দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়ায় যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনা রোধে ৯০০ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চললেও সম্প্রসারিত অংশের মাঝামাঝি স্থানে এখনও প্রায় ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) একটি বিশাল বিলবোর্ড দাঁড়িয়ে রয়েছে। খুঁটি ও বিলবোর্ড অপসারণের আগেই এভাবে তড়িঘড়ি নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সড়ক নিরাপত্তাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার এই অংশে মাঝখানে ৪ ফুট ডিভাইডার রেখে উভয় পাশে ২৪ ফুট করে মোট ৫২ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সম্প্রসারণ অংশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে, যার কয়েকটি ভবিষ্যৎ সড়কের ঠিক মাঝ বরাবর পড়ে যাচ্ছে। এতে নির্মাণকাজ যেমন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ভবিষ্যতে এখানে আরও বড় ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাঙ্গালিয়া অংশটি দীর্ঘদিন ধরেই মহাসড়কের ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে পরিচিত এবং গত এক বছরে এই এলাকায় ছোট-বড় প্রায় অর্ধশত দুর্ঘটনায় অন্তত ৭৪ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) লোহাগাড়া উপজেলা শাখার সদস্য সোহাগ মিয়া এবং পরিবহন প্রতিনিধি মিনহাজুর রহমান পারভেজ জানান, যেখানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে সেখানে রাস্তার মাঝখানে খুঁটি রেখে চার লেন করলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে, যা রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় চালকদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন হচ্ছে, যার মধ্যে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা পর্যন্ত ৩৫ কোটি টাকা এবং রাজঘাটা থেকে চুনতি মিঠার দোকান পর্যন্ত ৩৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এই বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, খুঁটি অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে চিঠি দেওয়া হলেও তারা বেশি টাকা দাবি করায় এখনও টাকা জমা দেওয়া হয়নি; তবে খুঁটি না সরিয়ে তাড়াহুড়ো করে কাজ করার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম রফিকুল ইসলাম খান স্পষ্ট জানিয়েছেন, সড়ক বিভাগ এখনও খুঁটি অপসারণের প্রয়োজনীয় টাকা জমা না দেওয়ায় খুঁটিগুলো সরানো সম্ভব হয়নি এবং টাকা জমা দিলেই কেবল দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন